Tuesday , December 18 2018

অসুস্থ মম’র চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ঝিনাইদহের মেয়র

“মাত্র ৩৫ হাজার টাকা পেলে বাঁচবে এক পরিবার” শিরোনামে গত ৯ অক্টোবর “সময়ের কন্ঠস্বর” অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর তা দৃষ্টিগোচর হয় ঝিনাইদহের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর ।







সাইদুল করিম মিন্টু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পবহাটিতে গৃহবধু মমতা নাহার মম’র বাড়িতে যান। এসময় তিনি অসুস্থ মম কে দু’হাত ব্যান্ডেজ অবস্থায় মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখেন । মেয়র অসুস্থ মম’র সাথে কথা বলেন এবং শারিরীক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন। তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তির আগ্রহ দেখান তবে মম বলছেন পঙ্গু হাসপাতালে হয়তো যাওয়া লাগবে না।







অসুস্থ মম জানান, ঝিনাইদহের ডাক্তার তাকে ভাল ঔষধপত্র নিতে বলেছে একই সাথে পুষ্টিকর খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছে।







এসময় মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু অসহায় মম’র হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন একই সাথে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের কথা জানান। মেয়র তার পরিবারের ছেলে-মেয়ের খোঁজ-খবর নেন। মেয়রের হঠাৎ উপস্থিতি ও চিকিৎসা ব্যয়ভার বহনের আশ্বাসে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারটি।







অসহায় গৃহবধু মমকে অর্থ সহায়তা দেয়ার সময় পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর সাথে পৌর আওয়ামীরীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী সুমন শিকদার, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আশ্রয়’র সভাপতি শুভ কুমার বিশ্বাস, মলয় কুমার ঘোষ, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের এমন মানবিক গুণাবলীর প্রশংসা করেন অসহায় পরিবার টি।







প্রসঙ্গত, ১৪ বছর আগে স্বামী দাউদ হোসেন স্ত্রী-সন্তানদের ফেলে যাওয়ার পর ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান পাড়ায় মম তিন সন্তান নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তার স্বামীর বাড়ি মাগুরার রাঘবদাইড় গ্রামে। সম্প্রতি মমতা নাহার মম ঝিনাইদহ শহরের (থানার সামনে) পৌর মার্কেটে যান কাজের জন্য। সেখান থেকে নামতে গিয়ে দুই তলা থেকে নিচে পড়ে যান। তার দুই হাত ভেঙ্গে চুর্নবিচুর্ণ হয়ে যায়। আঘাত পান মেরুদন্ডে। পরের বাড়িতে কাজ করে খাওয়ার আশা দুরাশায় পরিণত হয়। তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু ঢাকায় চিকিৎসা হওয়ার সমর্থ নেই মমতা নাহার মমর।







এমনকি ঢাকায় যাওয়া আসার গাড়ি ভাড়া পর্যন্ত নেই তার। তাই বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন নিজ বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ঝিনাইদহ শহরের প্রাইভেট প্রাকটিশনার ডাঃ নাজমুল হুদা তার হাতের অপারেশন করার আগ্রহ দেখানোর তার তার তত্ত্বধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু অপারেশন, আনুসাঙ্গক জিনিস ও ওষুধ কেনার মতো সামর্থ নেই তার। ওষুধসহ তার দুই হাতের অপারেশনের জন্য তখন ৩৫ হাজার টাকা লাগবে বলে ডাক্তাররা জানিয়ে ছিল।