Wednesday , November 14 2018

একটি প্রাইভেটকারের জন্য ৩ বন্ধুর দুর্ধর্ষ কাণ্ড

একটি প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের জন্য দুর্ধর্ষ কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিন বন্ধু। পরিকল্পনা করে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে চালককে খুন করেছেন তারা।

ঘটনার ১৯ দিন পর প্রাইভেটকার চালক হেলাল উদ্দিনকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃত তিন বন্ধু হলেন- ঢাকার তেজগাঁও কলেজের এইচএসসির ছাত্র মো. শহীদ আফ্রিদি (১৮), একই কলেজের তার সহপাঠী আবু কাওসার শান্ত (১৮) ও তেজগাঁও সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র হাফিজুর রহমান শুভ (১৪)। তাদের সবার বাসা ঢাকার তেজগাঁও এলাকায়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রাইভেটকার চালক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী তেজগাঁও সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র হাফিজুর রহমান শুভ। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে র‌্যাবের সময় লাগে ১৯ দিন।

নিহত প্রাইভেটকার চালক হেলালের মরদেহ উদ্ধারের পর গত ১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার হীরা বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন। হেলাল চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও ঢাকায় প্রাইভেটকার চালাতেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাফিজুর রহমান শুভ খালার বাড়ি হবিগঞ্জে যাওয়ার কথা বলে ৮ হাজার টাকায় হেলালের প্রাইভেটকার ভাড়া করে। এর আগে দুই বন্ধু আফ্রিদি ও শান্তকে গাড়ি ভাড়া জোগাড় করার দায়িত্ব দেয় শুভ। সেই সঙ্গে প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তিন বন্ধু।

ঘটনার দিন রাত ১০টায় হেলালের প্রাইভেটকার নিয়ে রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জে পৌঁছে তিন বন্ধু। এ সময় তারা চা খাওয়ার কথা বলে প্রাইভেটকার চালককে রাস্তার পাশের একটি দোকানে নিয়ে যায়।

সেখানে লোকজন না থাকায় চালকের মাথায় পেছন দিক থেকে রড দিয়ে আঘাত করে শান্ত। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চালক। এরপর তাকে ছুরি দিয়ে জবাই করে শুভ।

পরে চালকের মরদেহ গাড়িতে করে রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় তারা। শুভ আগে থেকেই গাড়ি চালানো জানত। কারণ তার বাবা গাড়িচালক ছিলেন। গাড়ি নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে চালকের মরদেহ ফেলে যায় তারা।

পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ তার মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর সংবাদ মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী মর্গে গিয়ে স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। তারপর মামলা করেন তিনি।

মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা। দীর্ঘ ১৯ দিন চেষ্টা চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে র‌্যাব। বুধবার রাতে তাদের ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিবরণ দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে তিন বন্ধু।

ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ছিল না। মোবাইলের ভুয়া সিম নম্বর ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ চেষ্টার পর হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়। গ্রেফতারের পর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে তিন বন্ধু। মূলত প্রাইভেটকারের জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা।

র‌্যাব কমান্ডার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যুবায়ের আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের এসআই ধর্মজিৎ সিংহ। তাই অাসামিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেবেন।