Wednesday , June 26 2019

‘গেইল খুব শান্ত মানুষ, হোটেলে তার সঙ্গে মনে রাখার মত একটি রাত কাটালাম, অনেক মজা হয়েছে’

গেইল খুব শান্ত মানুষ- বলিউড অভিনেত্রী স্নেহা উল্লাল অনেকদিন ধরেই খবরে নেই। অথচ এখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হঠাৎ তাকে ঘিরে হৈচৈ পড়ে গেছে! তার নামই আছে ট্রেন্ডিংয়ে। এর কৃতিত্ব অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও ডোয়াইন ব্রাভোর।

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠে নামার একদিন আগে নাকি তাদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নেন স্নেহা। অবশেষে সেই ব্যাপারে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।

২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ভারতীয় একটি পত্রিকায়কে স্নেহা জানান, ৩৬ বছর বয়সী এই ক্যারিবীয় তারকার সঙ্গে নেচেছেন, জমিয়ে আড্ডাও দিয়েছেন। বলেন, ‘ ক্রিস গেইল খুব শান্ত মানুষ, হোটেলে তার সঙ্গে মনে রাখার মত একটি রাত কাটালামও, অনেক মজাও হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ক্রিস গেইলকে দেখুন! খুব শান্ত মানুষ।’ স্নেহা বলেন, ‘অনেক মজা করলাম। মনে রাখার মতো একটি রাত কাটলো। আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভেগা এন্টারটেইনমেন্টকে ধন্যবাদ।’ ২০০৫ সালে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে ‘লাকি: নো টাইম ফর লাভ’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান স্নেহা। এর মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয় তার।







ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে চেহারায় কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। এখন আঞ্চলিক ছবিতেই বেশি কাজ করেন স্নেহা। এর মধ্যে মুক্তি পেয়েছে তেলেগু ছবি ‘ভারুদু’, ‘দ্য ব্লকবাস্টার সিমহা’ ও ‘অ্যাকশন থ্রিডি’।

কান্নাড়া ছবি ‘দেবী’ আর অনন্ত জলিল অভিনীত বাংলাদেশের ছবি ‘মোস্ট ওয়েলকাম’-এ দেখা গেছে তাকে। সর্বশেষ গত বছর ‘বেজুবান ইশক’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন মুগ্ধ ঘোষ ও নিশান্ত মালকানি।

এখন কেরাণীগঞ্জে স্টিলের ব্যবসা করছেন কিংবদন্তি স্পিনার রফিক

এক সময় বাংলাদেশের কিংবদন্তি স্পিনার ছিলেন তিনি। তাকে দেখেই তরুণ খেলোয়াড়রা স্পিনার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হতো। সে কারণে এক সময় বাংলাদেশের স্পিনারদের পাইপলাইন বেশ শক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রফিক যেন দূরের বাতিঘর হয়ে গেলেন।

২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার পর ক্রিকেটের সঙ্গে বিশেষ করে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। এক সময়কার কিংবদন্তি এই স্পিনারকে বোর্ডও খুব একটা ব্যবহার করেনি। রফিকের সঙ্গে যারা খেলেছেন, তারা এখন বোর্ডে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

অথচ রফিক নেই বোর্ডের কোনো কার্যক্রমেই। সে নিয়ে তার ক্ষোভও রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষোভটুকু বাদ দিলে বেশ ভালো আছেন তিনি। ওয়ালটন মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালে খেলতে রফিক এখন কক্সবাজারে।

এখানেই দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত, ক্রিকেট নিয়ে তার পরিকল্পনা, ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্রীড়া প্রতিবেদক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন টেস্টে ১০০ এবং ওয়ানডেতে ১২৫ উইকেট পাওয়া মোহাম্মদ রফিক। তার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :







প্রশ্ন : ওয়ালটন মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভাল কেমন উপভোগ করছেন?

মোহাম্মদ রফিক : আমরা ক্রিকেট খেলাটাকে বরাবরই উপভোগ করি। আসলে কী, মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখলে একরকম অনুভূতি হয়, আবার মাঠে খেললে অন্যরকম অনুভূতি হয়।

আসলে এটা একটা মিলনমেলা হলেও এখানে কিন্তু এক প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান। আমি চাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা সব সময় ক্রিকেটে থাকুক। গেল বছরও খেলেছি। এবার খেলছি। খুব উপভোগ করছি।

প্রশ্ন : এই কার্নিভালেও কি প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা অনুভব করতে পারেন?

মোহাম্মদ রফিক : অবশ্যই অনুভব করি। এখানে কিন্তু হার-জিত আছে। একটা ট্রফি আছে। সব দলই চাইবে ওই ট্রফিটা ছুঁতে। সে কারণে অটোমেটিক্যালি প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা চলে আসছে।

প্রশ্ন : মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালের ভবিষ্যত কেমন বলে আপনার মনে হয়?

মোহাম্মদ রফিক : ভবিষ্যত অবশ্যই ভালো। এটা এক সময় বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট হয়ে উঠতে পারে। এখানে কারা খেলছে? যারা এক সময় দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ছিল। এখনো তারা অনেকের কাছে জনপ্রিয়।

তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের লিজেন্ড। তবে আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ করব আরো একটু ভালো সময়ে যেন এই টুর্নামেন্টটা আয়োজন করা হয়। এটাকে নিয়ে আর একটু প্রচার-প্রচারণা হতে পারত।

একটু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলে, টিভিতে অ্যাড দিলে হয়তো এবারও অনেক দর্শক এখানে খেলা দেখতে আসত। টুর্নামেন্টটার পরিচিতি বাড়ত। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়লে, অনেক দর্শক আসলে, টুর্নামেন্টটা কিন্তু ভিন্ন মাত্রা পেতে পারত।







প্রশ্ন : আপনার সমসাময়িক অনেকেই বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আপনি নেই ধারেকাছেও। আক্ষেপ হয়?

মোহাম্মদ রফিক : এখন আর হয় না। আসলে আমি আগে থেকেই বলে আসছি যে, আমি বোর্ডের সঙ্গে কাজ করতে চাই। ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে চাই। অনেক চেষ্টাও করেছি। আমার সমসাময়িক অনেককেই বলেছি।

সবাই কেবল আশ্বাস দিয়েছে। কেউ কিছু করতে পারেনি আমার জন্য। আমি আসলে এখন আর কাউকে কিছু বলে বিরক্ত করতে চাই না। সবাই যার যার মতো ভালো আছে। আমিও ভালো আছি।

প্রশ্ন : বোর্ড আপনাকে মূল্যায়ন করেনি। যদি কখনো বোর্ড আপনাকে আবার ডাকে, যাবেন?

মোহাম্মদ রফিক : বোর্ড ডাকলে আমি সব সময়ই যেতে প্রস্তুত। আজ আমার যা কিছু, তার সবকিছুই এই ক্রিকেটের জন্য।

প্রশ্ন : পরিবার-পরিজন নিয়ে কেমন আছেন?

মোহাম্মদ রফিক : আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো আছি। এখন কেরাণীগঞ্জে স্টিলের ব্যবসা করছি। বেশ ভালো হচ্ছে। আমার ছেলে ব্যবসা বুঝে নিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি।

প্রশ্ন : ক্রিকেট নিয়ে কীভাবে কাজ করতে চান?

মোহাম্মদ রফিক : আমি একটি একাডেমি গড়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই একাডেমির জন্য মাঠ পেয়ে যাব। বিদ্যুৎমন্ত্রী আমাকে একটি মাঠের ব্যবস্থা করে দেবেন বলেছেন। সেটা হয়ে গেলে আমি আমার একাডেমি নিয়েই পড়ে থাকব।







প্রশ্ন : মাঝে মাঝে আপনি ভারত যান, সেখানে কী করেন?

মোহাম্মদ রফিক : সেখানে গাঙ্গুলির (সৌরভ গাঙ্গুলি) একাডেমিতে কাজ করি। এই তো চলতি বছরের মার্চে গিয়ে ১৪/১৫ দিন কাজ করে আসছি। ওরা তো আমাকে বারবারই যেতে বলে। ওরা বলে যে, আপনি বছরে তিন-চারবার আসেন। আসলে সব সময় যাওয়া যায় না।

প্রশ্ন : আপনি জানেন যে বিপিএলে পাঁচজন বিদেশি খেলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মোহাম্মদ রফিক : আসলে পাঁচজন খেলানোর কথা বললেও অনেকেই দেখবেন খেলাবে না। যখন দেশের ক্রিকেটাররা ভালো করবে তখন কিন্তু তাদের খেলাবে না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

খেলাতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেলে। তবে হ্যাঁ, ঘরের ছেলেরা সুযোগ না পেলে ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে কীভাবে! বিদেশি পাঁচজন না খেললে আমাদের দেশের আরো দুটো খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেতে পারত। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেত।

প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে আসবে?

মোহাম্মদ রফিক : তাদের খেলোয়াড়রা তো আসতে চাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে এই সিরিজ আয়োজন করাটা কঠিন হবে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা আসতে না চাইলে বোর্ড তাদের পাঠাতে পারবে না।

তবে অস্ট্রেলিয়া আসুক না আসুক, বাংলাদেশকে তার নিজস্ব সূচি তৈরি করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া না আসলে সেই সময়ে বসে থাকলে চলবে না। অন্য দলকে ডেকে আনতে হবে। জিম্বাবুয়ে সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ খেলেছে।

তাদেরকে ডাকতে পারেন। কিংবা তাদের মাঠে খেলতে যেতে পারেন। আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে, তাদেরকে ডাকতে পারেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া না আসলে খেলোয়াড়রা কি লম্বা সময় বসে থাকবে? সেটা করা ঠিক হবে না।







প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের স্পিন ভবিষ্যত নিয়ে যদি কিছু বলতেন…

মোহাম্মদ রফিক : সত্যি বলতে কী, ভবিষ্যত ভালো না। সাকিবসহ যে কয়জন আছে, তারা চলে গেলে ওই মানের আর কোনো স্পিনার থাকবে না। তারা না থাকলে এই জায়গাটা গুছিয়ে ওঠা যাবে না। এখন তো আমাদের স্পিন কোচই নেই। পেসের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ স্পিনারও দরকার।

প্রশ্ন : স্পিনার হান্ট নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মোহাম্মদ রফিক : স্পিনার হান্টের জন্য আমি বিজ্ঞাপনও করেছিলাম। ওই পর্যন্তই। এরপর তারা আর খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই নিজের থেকে তাদেরকে ফোন করেছি। তারা বলেছিল যে, তারা আমাকে ডাকবে। জেলা পর্যায়ের পর মূলপর্বে আমাকে ডাকবে। এরপর দেখলাম সেই আয়োজনের পুরস্কার বিতরণীও হয়ে গেল। কিন্তু আমাকে আর ডাকার প্রয়োজন পড়েনি।

সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
মোহাম্মদ রফিক : আপনাকেও ধন্যবাদ।-রাইজিংবিডি