Wednesday , June 26 2019

প্রতিবেশীদের চোখে কেমন ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু

কিংবদন্তী গিটারবাদক আইয়ুব বাচ্চু শুধু ব্যান্ডদল এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, তিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, ও প্লেব্যাক শিল্পী। বাচ্চু ছিলেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীত জগতের একজন জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। এলআরবি প্রতিষ্ঠার পূর্বে তিনি দশ বছর যুক্ত ছিলেন সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারবাদক হিসেবে । ব্যান্ডসঙ্গীতে তার যাত্রা শুরু ফিলিংস ব্যান্ড দলের মাধ্যমে ১৯৭৮। তিনি তার শ্রোতা-ভক্তদের কাছে ‘এবি’ নামেও পরিচিত।
দীর্ঘ কয়েক দশক ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতকে মাতানোর পর রূপালি গিটার ছেড়ে সদ্য পাড়ি জমিয়েছেন এক অজানা পথে। সত্তরের দশক থেকে বাংলাদেশে শ্রোতাদের কাছে ইংরেজি গান, হার্ড-রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক, ব্যান্ড মিউজিক – এসব জগতের পরিচয় হতে থাকে তার গানের মধ্য দিয়ে।







কর্মজীবনে যেমন তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, নিবেদিত ও সফল তারকা। তেমনই ব্যক্তিজীবনেও তিনি ছিলেন একজন সৎ-আদর্শবান ও দয়াশীল মানুষ। আইয়ুব বাচ্চুর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়েছেন সঙ্গীতাঙ্গণের মানুষসহ আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীরা। রাজধানীর মগবাজারের কাজী অফিসের লেনে আইয়ুব বাচ্চুর পুরাতন বাসা। এ বাসায় তিনি কাটিয়েছেন তার জীবনের লম্বা একটা সময়।

কথা হয় আইয়ুব বাচ্চুর প্রতিবেশীদের সাথে। কাজী অফিসের লেনের বায়তুল কোরআন জামে মসজিদের সাবেক মুজ্জায়িন তার প্রতি স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই মসজিদে আইয়ুব বাচ্চু নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তার মৃত্যুর আগের শুক্রবার এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন।

মেয়ে ফায়রুজ সাফরা বিয়ের সময় থেকে আইয়ুব বাচ্চুর সাথে আমার সম্পর্ক। আমি মানুষটাকে খুব কাছ থেকে জানতাম। তার মতো নম্র-ভদ্র মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি।







মুয়াজ্জিন আরও বলেন, আইয়ুব বাচ্চু তার মাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। তিনি ছেলে আহনাফকে নিয়ে মাঝেমধ্যে চলে যেতেন মায়ের কবরের পাশে । একবার তিনি আহনাফকে বলেছিন, ‘যে ফুল চলে গিয়েছে সে ফুল আর আসবে না, এই ফুল যাবে সেই ফুলের কাছে’।

আইয়ুব বাচ্চুর বাসার কেয়ারটেকার জানান, তিনি একবার তার এলাকার মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর কাছে পাঁচ হাজার টাকা আবেদন করেছিলেন। তিনি পাঁচ হাজার টাকার পরিবর্তে তের হাজার টাকা দান করেছিলেন। এবং বলেছিলেন, এ দানের কথা তার মৃত্যুর আগে যেন কেউ জানতে না পারে। তিনি এক হাতে দান করতেন অন্য হাত জানতো না।

১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আইয়ুব বাচ্চুকে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামে তার মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হয়।