তফসিল ঘোষণা না করতে আবেদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা বন্ধ রাখার জন্য ইসি বরাবর আবেদন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন।

শনিবার (৩ নভেম্বর ) দুপুরে ইসিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড কামাল এ আবেদন করেন।







জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেনের আবেদনটি বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য হুবাহুব তুলে ধরা হলো:

‌‌‌‘প্রতি
জনাব কে এম নুরুল হুদা
মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়
আগারগাঁও, ঢাকা।

বিষয়: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের দিনক্ষণ ঘোষণা না করার প্রসঙ্গে।







জনাব,
সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। গত ১ নভেম্বর ২০১৮ বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদের সাথে আপনারা সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা খুবই উৎসাহের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনা শেষে আপনারা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সরকারি জোটের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সংলাপের বিষয়টি আপনাদের দৃষ্টিতে রয়েছে।

আপনারা জানেন, গত ১ নভেম্বর ২০১৮ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গণভবনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সংলাপ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সংলাপে বলেছেন তফসিল ঘোষণার বিষয়টি একান্তভাবেই নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন যে ৮ নভেম্বর এর পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের বিষয়ে আবারো বিবেচনা রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবারো সংলাপে বসার জন্য ইচ্ছুক।’

আপনারা যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে অবগত আছেন এবং সেদিকে নজর রাখছেন-সে প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি যে, তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করাই শ্রেয়।







তফসিল ঘোষণা নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তফসিল ঘোষণার পরই রাজনৈতিক দলগুলো এবং প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবে। যে কোন ধরণের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা হচ্ছে অন্যতম ‘স্টেক হোল্ডার’। তাদের কর্মকাণ্ড এবং কর্মসূচিকে আমলে নেয়া নির্বাচন কমিশনের মৌলিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা একাদশ নির্বাচনসহ দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক গুনগত পরিবর্তন আনতে পারে-যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আপনাদের প্রচেষ্ঠাকেও সহায়তা করবে।

এমতাবস্থায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ শেষ হওয়ার পর তফসিল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ করছি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ নির্ধারণে আপনারা এমন অপেক্ষা রাজনৈতিক দল এবং জনগণের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনাদের সার্বিক মঙ্গল কামনায়।’

ধন্যবাদান্তে (ড.কামাল হোসেন)