Wednesday , November 14 2018

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন মঙ্গলবার, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট

আগামীকাল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণাও ছিল জমজমাট।







প্রচারণায় এক দল আরেক দলকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছে। এমনকি প্রচারণায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন। তবে সিনেটে রিপাবলিকানরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন। আগের চেয়ে এবার বেশি ভোট পড়ার আশা করা হচ্ছে। ৫০০ কোটি ডলারের নির্বাচনে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতা ন্যান্সি পেলোসি।







কালকের নির্বাচন ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন’ নয়। তারপরও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিংবা তার দুই বছরের কর্মকাণ্ড এতে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ৪০ ভাগ ভোট আগেই দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনে মূলত রিপাবলিকানদের হাতি এবং ডেমোক্র্যাটদের গাঁধার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।







মধ্যবর্তী নির্বাচন কী : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় প্রতি চার বছর পরপর। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষে (উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ) ভোট হয় প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে। প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (৪৩৫টি) সবগুলো আসনে ভোট হয়। কারণ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য বা কংগ্রেসম্যানদের মেয়াদ দুই বছর। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টিতে ভোট হবে। সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। ৩৬ টি রাজ্যের গভর্ণর পদে নির্বাচন হবে। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন বসবে আগামী জানুয়ারিতে।







জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা : বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের ১৯৩টিতে ডেমোক্র্যাট এবং ২৩৫টি রিপাবলিকানদের। আর সিনেটে ৪৯ ডেমোক্র্যাট এবং ৫১টি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য সিনেটে ৫১টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮টি আসনে জয় পেতে হবে। নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত জিতেন এমন আসন ১৮৭টি। ডেমোক্র্যাট ভাবাপন্ন ১৫টি এবং ডেমোক্র্যাটরা জিততে পারেন এমন আসন ৫টি। জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৩১টিতে। রিপাবলিকানরা জিতেন এমন আসন ১৫৩টি। রিপাবলিকান ভাবাপন্ন ২২ এবং রিপাবলিকানরা জিততে পারেন ২২টিতে। সিনেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ৬টিতে। ডেমোক্র্যাটদের ২৩টি এবং রিপাবলিকানদের ৪২টিতে নির্বাচন হচ্ছে না। ৩৫টির মধ্যে ১৪টিতে ডেমোক্র্যাটরা জিতে থাকেন, ৫টিতে জিততে পারেন এবং ডেমোক্র্যাট ভাবাপন্ন ৩টি। রিপাবলিকানরা ৫টিতে জয় পেয়ে থাকেন। রিপাবলিকান ভাবাপন্ন মাত্র দু’টি। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের জরিপে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদে ৫০ ভাগ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাট এবং ৪৩ ভাগ ভোটার রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করেন। আরেকটি জরিপে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ৫১ ভাগ এবং রিপাবলিকানদের প্রতি ৪৪ ভাগ সমর্থন আছে। যদিও ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কমেছে। অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান জনপ্রিয় হতে পারে। সিনেটে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।







নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু : স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, অর্থনীতি এবং অভিবাসন। সিএনএনের এক জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানরা অভিবাসন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে একমত। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এই ইস্যুতে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এবার ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে ভোটাররা সমর্থন দিতে পারেন। তবে স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং অর্থনীতি ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি নিয়ে রিপাবলিকানরা বিভক্ত। এছাড়া সমপ্রতি ইহুদি উপাসনালয়ে হামলা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।







ঘরে-বাইরে কী প্রভাব পড়বে : নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল জিতলে ঘরে-বাইরে তার ভাবমূর্তি বাড়বে। নির্বাচনে জয় দেশে ট্রাম্পের যে আধিপত্য আছে তা বিশ্ব নেতাদের কাছে তুলে ধরবে। তার ‘আমেরিকা ফাস্ট’ এজেন্ডা বিশ্বমঞ্চে আরো আধিপত্য খাটাবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সঙ্গে আরো দরকষাকষি করতে পারবেন। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধেও তিনি প্রভাব খাটাবেন। আর ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষে জিতলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক নীতি বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি তার প্রেসিডেন্ট পদ নিয়েও শংকার সৃষ্টি হতে পারে। আর বিশ্বে তিনি নেতা হিসেবে দুর্বল অবস্থানে চলে আসতে পারেন। – সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট

ইত্তেফাক