Wednesday , June 26 2019

মুক্তি মিলবে খালেদার, যদি…

চিকিৎসার শর্তে বিদেশ গেলে বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার ‘প্যারোলে’ মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা মনে করেন, মামলার বিষয়ে আদালতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চান না তারা।

কারণ জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয় সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে। আর এসব মামলায় খালেদা জিয়ার সাজাও দিয়েছেন আদালত। তাই তার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। ওই মামলা বাতিল করার এখতিয়ার সরকারের নেই।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে কথা বলে এতথ্য জানা গেছে। তাদের মতে আদালতের মাধ্যমে ‘প্যারোলে’ মুক্তি নিতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে বিএনপি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না। তাছাড়া সমঝোতা করে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়।













প্যারোলে মুক্তি হলো- ফৌজদারি কার্যবিধির আলোকে কয়েদি বা হাজতি আসামিকে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেয়া হয়। বিশেষ করে আসামির নিকটাত্মীয় কেউ মারা গেলে বা আসামির চিকিৎসার জন্য সরকার এ সুবিধা দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালতের মাধ্যমে করতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা বা সংলাপের মাধ্যমে সেটা সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর গণভবনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাথে সংলাপে বসে। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের বিষয়। আদালতের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে।







অন্যদিকে, ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপি চাইলে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করতে পারে। কারণ যে মামলার রায় হয়ে গেছে, দণ্ড হয়ে গেছে সেই মামলায় জামিনের বিষয়টি উচ্চ আদালতের বিষয়।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও এক অনুষ্ঠানে জানান, খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন আদালত। তাই তার কারামুক্তির বিষয়টিও আদালতের সিদ্ধান্ত।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম জানান, প্যারোলে মুক্তির আইনি সুবিধা সীমিত। তবে বিএনপি আবেদন করলে আইনী প্রক্রিয়ায় সেটা বিবেচনা করবে সরকার।