Tuesday , May 21 2019

আ’লীগের সাথে জাপা’র আসন ভাগাভাগি নিয়ে যা বললেন জিএম কাদের

আসন ভাগাভাগি – বিএনপিসহ সবদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট করেই নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি। সোমবার রাতে গণভবনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ কথা বলেন।







তিনি বলেন, ‘সবদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমরা মহাজোট করেই নির্বাচন করব। এটিতে আমরা একমত হয়েছি। কোনো কারণে যদি সব দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে আমরা হয়তো ৩০০ আসনে নির্বাচন করব।’

‘জিম এম কাদের বলেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে নির্বাচনের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। ’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘নির্বাচনী আসন নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কথা হয়নি। আমরা সামগ্রিকভাবে বলেছি, ওনারাও বলেছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব বিবেচনা করবেন, এই আশ্বাস ওনারা দিয়েছেন। আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো আসন চাইনি। আমাদেরকে ওনারা সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেনি। এটা স্বল্প পরিসরে উভয় দলের কয়েকজন নেতানেত্রী মিলে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’







জিএম কাদেরের পর সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এছাড়া নির্বাচিত হলে একসঙ্গে সরকারও গঠন করবে এই দুই দল।

আসন বন্টন নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সংলাপে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন বন্টনের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এটা ছোট পরিসরে করা হবে। ছোট কমিটি করে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে আসন বন্টনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হেবে।

বিএনপি নির্বাচনে আসলে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যেভাবে রাজনীতির মেরুকরণ হবে সেভাবে সমিকরণও হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইনসম্মত এবং সংবিধানসম্মতভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এ ব্যাপারে সংলাপে আওয়ামী লীগ জোটের সাথে জাতীয় পার্টির জোট একমত পোষন করেছে।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জাতীয় পার্টির বনানী অফিস থেকে গণভবনের উদ্দেশে রওনা করেন এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রতিনিধি দল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংলাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন- জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সালমা ইসলাম এমপি।

এছাড়া প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- ফখরুল ইমাম এমপি, এমএ ছাত্তার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসন খান, আলহাজ সাহিদুর রহমান, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, আজম খান, সোলায়মান আলম শেঠ, আতিকুর রহমান আতিক, মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি। এছাড়া রয়েছেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মান্নান, মহাসচিব এমএ মতিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাহফুজুল হক, যুগ্ম মহাসচিব জালাল আহমেদ, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক ও বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি।