Thursday , May 23 2019

মৃত্যুর পরে হিটলারের সমস্ত টাকার কী হয়েছিল? খুব কম মানুষই সত্যিটা জানেন!

১৯২৩ সালে বেয়ার হল পুটশের ব্যর্থতা হিসেবে উচ্চ রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে অ্যাডল্ফ হিটলার প্রথমবারের মত “মেইন ক্যাম্পফ” (মাই স্ট্রগল) লিখেছিলেন ।

বইটির লেখার পিছনে মূল করন কেবল একটি রাজনৈতিক ট্র্যাক্ট লিখতে পারা ছিলনা, এর আরেকটি কারন ছিলো 19২4 সালে হিটলারের বিচার ট্রায়ালের খরচ কমানো ।
বইটির বিক্রির শুরুতে জার্মানিতে সেরকম প্রভাব না ফেললেও, তবে বেশ কিছু প্রচেষ্টার পর, এটি ব্যাপক আকারে বিক্রি শুরু হয় এবং বেশ খ্যাতিও অর্জন করে | এই বইটি পরে 16 টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল এবং 1945 সালে হিটলারের মৃত্যুর সময় ইতোমধ্যেই প্রায় 8(আট) মিলিয়ন বা 80(আশি) লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল । এই বইটি প্রতি বছর মিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে বলে অনুমান করা হয়েছিল, শুধুমাত্র রয়্যালটিতে।







হিটলার

মেইন কাম্ফ হিটলারকে অনেক টাকা দিয়েছিল, সম্ভবত তার আশা করা অর্থের চেয়েও বেশি, তার মৃত্যুর পর তার এই বিপুল অর্থের কি ঘটেছে তা এখন জানা যাক..
মেইন কাম্ফের মূল সংস্করণটির একটি কপিঃ-


হিটলার ছিলেন একজন সংগ্রামরত নাগরিক যিনি অল্প বয়সে খুবই অর্থাভাবে ভুগছিলেন । তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তারপর সম্প্রতি গঠিত নাৎসি পার্টিতে যোগ দেন। 1932 সালে ব্যাভারিয়ান সরকার বিরোধী ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় হিটলার এবং তার নাৎসি সহকর্মীরা কারাগারে বন্দী ছিল। হিটলার ল্যান্ডসবার্গ জেলখানায় এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক ঘোষণা ও আত্মজীবনী লিখেছিলেন।







বিরোধী সেমিটিক প্রবন্ধটি দুটি ভলিউমে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান হয় এবং এই স্বৈরশাসক-লেখকের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।1933 সালে, হিটলার জার্মান চ্যান্সেলর হন এবং সেই বছরই জার্মানিতে প্রতি নব দম্পতিদের “মেইন ক্যম্ফ” এর কপি বিনামূল্যে বিতরন করা হয় | এরপর সেখানের পৌরসভা, বই প্রকাশকের থেকে এই বই ক্রয় করেছিল।”মেইন ক্যাম্ফ” এর বিক্রয় 1945 সালের 1 দশকের মধ্যে 10 মিলিয়নেরও বেশি হয় এবং তার রয়্যালটি হিটলারকে একজন ধনী ব্যক্তি বানিয়ে দেয়।

ব্যাভারিয়ান রাজ্য:-







যুদ্ধের পর মিত্ররা ব্যাভারিয়ান সরকারকে “মেইন ক্যাম্পফ” এর কপিরাইট দিয়েছিল এবং সরকার জার্মান ভাষাভাষী অঞ্চলে একনায়ক এর এই জীবনীর পুনঃপ্রকাশ করার নিষিদ্ধ করে দেয়। এরপর 30 এপ্রিল, 2015 তারিখে লেখকের মৃত্যুর 70 তম বার্ষিকী উপলক্ষে “মেইন ক্যাম্ফ”-এর ইউরোপীয় কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি পাবলিক ডোমেইনে প্রবেশ করে।

রয়্যালটি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ছাড়াও হিটলারের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে বারগফে একটি বাড়ি, ব্যাভারিয়ান আলেপ্সের একটি বাড়ি এবং মিউনিখের একটি অ্যাপার্টমেন্ট।1945 সালের এপ্রিল মাসে হিটলার তাঁর মৃত্যুর পূর্বে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন যে, তার সমস্ত সম্পদকে নাৎসি পার্টিতে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে নাৎসি পার্টির বিলুপ্তির সাথে, হিটলারের সমস্ত সম্পদ ব্যাভারিয়ান রাজ্যে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি একজন নিবন্ধিত আবাসিক ছিলেন।







বার্গফ:-


সৈন্যদের দ্বারা বোমা হামলার ফলে বার্গফের এল্পাইনের বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং 1952 সালে এটিতে আবার বোমাবর্ষণ করে পুরোপুরি ধ্বংস করার কথা ও ভাবা হয়, কিন্তু পরে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সেই বাড়িটিকে একটি পর্যটন-আকর্শনের কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় | বার্গফের এই এপার্টমেন্ট বিল্ডিং এখনও রয়েছে এবং এটি এখন একটি পুলিশ স্টেশনে পরিণত হয়েছে।

অ্যাডল্ফ হিটলার সম্পর্কে এত এত কথা আমরা জানতাম না, তাই না?