Wednesday , November 14 2018

মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেলেন সন্তান-পুত্রবধূ

মাদারীপুর পৌর শহরের শকুনী লেক পাড়ের রাস্তায় গভীররাতে জোবেদা খাতুন নামে এক বৃদ্ধাকে ফেলে গেছেন তার সন্তানরা। পর দিন সকালে দুই শিক্ষার্থী সকালে হাঁটতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে ভর্তির পর নিজের নাম এবং সন্তান ও পুত্রবধূ মিলে তাকে ফেলে রেখে যাওয়ার কথা বললেও তারপর থেকে আর কথা বলছেন না তিনি। ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনি অতি কষ্টে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।







মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গত ৩১ অক্টোবর গভীররাতে মাদারীপুর শহরের শকুনী লেকের উত্তর পাড়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তার সন্তান ও পুত্রবধূ (বৃদ্ধার কথা অনুযায়ী)। সকালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বিলাস হালদার ও মেহেদী ইসলাম হাঁটার সময় কেউ পড়ে আছে দেখে এগিয়ে যান। গিয়ে দেখে হাতে-মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধা পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিক তারা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

উদ্ধারকারী শিক্ষার্থী বিলাস হালদার জানান, আমরা দু’জনে বৃদ্ধাকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে সদর হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করি। তারপর জেলা ছাত্রলীগের নেতা পিয়াস শিকদার, নাজমুল হোসেন, মাহমুদ হাসান দিনার, শাওন আহমেদ, অমল কুন্ডসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে বিষয়টি বলি। তারাও ওই দিন হাসপাতালে এসে বৃদ্ধার চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। ওই দিন বৃদ্ধা নিজের নাম ও তার সন্তান-বউ মিলে মারধর করে ফেলে গেছেন বলে জানান। তারপর থেকে আর কথা বলতে পারেন না। শুধু তাকিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।







এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ জানান, উদ্ধারের পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কিছুটা মেডিসিনের অভাব দেখা দিলে সমাজসেবার সহযোগিতায় এনে চিকিৎসা দিচ্ছি। বর্তমানে বৃদ্ধা কিছুটা সুস্থ হলেও প্রচণ্ড মানসিক আঘাতে স্মৃতিশক্তি কিছুটা লোপ পেয়েছে। তবে তার আত্মীয়-স্বজনদের পেলে সব ঠিকও হয়ে যেতে পারে।

বৃদ্ধাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে সরকারি সহযোগিতার কথা জানিয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, সন্তানরা যদি এখনও তার মাকে নিয়ে গিয়ে সেবা-যত্ন করতে চায় তাতে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে যদি এমন অবস্থায় ফেলে রাখে, তাহলে তাদের পরিচয় পাওয়া গেলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বর্তমানেও বৃদ্ধাকে নিতে চায়, তাহলে তাদের জিম্মায় দেয়া হবে। আমরা সরকারি তরফ থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।