Wednesday , November 14 2018

৮টি কবর খোঁড়া হলো একসঙ্গে

কবরস্থানে আটজনের জন্য সারি ধরে আটটি কবর খোঁড়া হয়েছে। জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে খোঁড়া হয় এসব কবর। শহরের আরামনগর এলাকার মানুষ এর আগে কখনো একসঙ্গে এত কবর খোঁড়া দেখেননি।







বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে আটজনের মরদেহ জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত লোক অংশগ্রহণ করেন।







এর আগে বুধবার রাতে জয়পুরহাট শহরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে এক পরিবারের ওই আট সদস্যের সবাই মারা যান।







১০ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুরগি ব্যবসায়ী আবদুল মোমিন (৩৮), তার স্ত্রী পরী বানু (৩০), ২ বছরের শিশু আবদুর নূর, দুই যমজ মেয়ে হাসি ও খুশি (১২), বড় মেয়ে বৃষ্টি (১৪), বাবা দুলাল হোসেন (৭১) এবং মা মোমেনা বেগম (৬১)।







ঘটনাস্থলে মোমিন, বৃষ্টি ও মোমেনা বেগমের মৃত্যু হলেও বাকিরা ঢাকায় আনার পথে মারা যান। প্রথমে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জয়পুরহাট জেলা হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল পাঁচজনকে। অবস্থা বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সবাই।







জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের অদূরে আরামনগর এলাকার একটি বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীরা হঠাৎ দেখতে পায় বাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে তারা এগিয়ে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি।







প্রতিবেশীরা জানান, রাতের খাবার খেয়ে আবদুল মোমিনের বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ টিন শেডের ওই বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে তারা এগিয়ে আসেন। খুব দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।







আবদুল মোমিন তার অগ্নিদগ্ধ ছেলে-মেয়েদের কোনো মতে ঘরে বাইরে বের করে দিতে পারলেও নিজে বের হতে পারেননি। তিনি ঘরের ভেতরেই পুড়ে কয়লা হয়ে যান। এছাড়া ঘরের ভেতরেই মোমেনের সঙ্গে তার মা ও বড় মেয়ে মারা যান। তাদের শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের চেনার উপায় নেই। প্রতিবেশীরা বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। নীলফামারীর ডোমারের এ পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে নিয়ে জয়পুরহাট শহরের আরামনগর এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি ফেরি করে এলাকায় মুরগি বিক্রি করতেন।







প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত বলা হলেও পরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম।







ঘটনার পরপরই জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জয়পুরহাট পৌর মেয়রসহ শত শত লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।