Wednesday , June 26 2019

ইভিএম কেনা নিয়ে সুজনের অনুষ্ঠানে যা বললেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন শেষ সময়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমের বিষয়টি সামনে আসায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্কের।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের দাবী, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশ্লেষকবৃন্দ।







তাদের মতে, সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত না করেই তাড়াহুড়ো করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব মেশিন কেনা হচ্ছে কার স্বার্থে?

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেন, সব দল ইভিএম না চাইলে তা এবারের নির্বাচনে ব্যবহার ঠিক হবে না। এছাড়া ইভিএম কেনার দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হচ্ছে, যেটি আশঙ্কার বিষয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত না করেই তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ৩৮শ কোটি টাকা খরচ করে কার স্বার্থে ইভিএম কেনা হচ্ছে?

প্রসঙ্গত, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ইসিও এত দিন বলে এসেছে, সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি বা কারিগরি সামর্থ্যও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।







নির্বাচন কমিশন বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী আনতে হবে। আরপিও সংশোধনীর জন্য প্রস্তাব করে ইসি। এ লক্ষ্যে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাতেও বসে কমিশন। নিয়মানুযায়ী, কমিশন অনুমোদন দিলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন শেষে তা পাসের জন্য সংসদে পাঠানোর বিধান রয়েছে।

কিন্তু আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানোর আগেই ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। তবে তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই প্রকল্প প্রস্তাবের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছে।