Sunday , December 9 2018

শারীরিক সম্পর্কের পর গোসল নিয়ে যে বিধান, জেনে রাখা খুবই জরুরী

শারীরিক সম্পর্কের পর- যে গোসল করা খুবই অপরিহার্য তাকেই ফরজ গোসল বলে। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারো স্বপ্নদোষ হলে বা স্বামী-স্ত্রীর সহবাস সম্পন্ন হলে তখন ফরজ গোসল করা আবশ্যক এবং এটি অত্যন্ত জরুরী। আবার বিভিন্ন কারণেও গোসল ফরজ হয়। ইসলামের বিধানে ফরজ গোসলকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে অবহিত করা হয়েছে।

কারণ হলো কারো ওপর গোসল ফরজ হলে সঠিক-শুদ্ধ পদ্ধতিতে গোসল আদায় না করা পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নাপাক থাকবেন। আর এই নাপাকি অবস্থায় তার কোনো প্রকারের কোনো ইবাদত-বন্দেগি করার অনুমতি নেই। সুতরাং সঠিক-শুদ্ধভাবে আমল করার জন্য শারীরীকভাবে পবিত্র থাকার উদ্দেশ্য গোসল ফরজ একান্ত জরুরী।

যে সকল কারণে গোসল ফরজ: স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে। নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক বা আর নাই হোক)। মেয়েদের হায়েস নিফাস শেষ হলে। ইসলাম গ্রহণ করলে (নব-মুসলিম হলে)।

সহবাসের পর গোসল করা জরুরী এবং গোসল করা ফরয। পুরুষের লিঙ্গ নারী যোনিতে প্রবেশ করলেই উভয়ের উপর গোসল ফরয। এতে বীর্যপাত হোক আর না হোক, স্বামী ও স্ত্রীকে ফরয গোসল করে নিতে হবে।

আর সহবাস করবেন রাতের শেষ প্রহরে। এসময় সহবাস করলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং সারা রাত অপবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে না। কিন্তু আপনি যদি রাতের মধ্যাংশে সহবাস করেন, তাহলে আপনাকে গোসল করে ঘুমাতে হবে। নয়তো গোসল না করে ঘুমালে, সারা রাত অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে হবে। মানুষের হায়াত মউতের কোন ঠিক ঠিকানা নেই।

কার কোন সময় মৃত্যু হবে তা কেউ জানে না। অপবিত্র অবস্থায় মারা গেলে কবরে জিবরাঈল (আঃ) সাক্ষাৎ করতে আসবে না। রাতের শেষ প্রহরে এমন সময় সহবাস আরম্ভ করবেন, যাতে সহবাস করার পর গোসল করে ফযরের নামায আদায় করতে সক্ষম হন। কোন অবস্থায় নামায মিস করা যাবে না। সহবাস করার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গোসল করবেন। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হবে এবং ঠাণ্ডাও লাগবে না।

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম:
১. গোসলের আগে মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।

২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।

৩. এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ও অন্যান্য স্থান ভালো করে ধৌত করতে হবে। আশপাশ ও শরীরের অন্য জায়গায় নাপাকি লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে ফেলতে হবে।
৫. এবার অজুর নিয়মের মত করে অজু করতে হবে কিন্তু দুই পা ধোয়া যাবে না।

৬. এবার অজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।

৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে তিনবার ডানে তারপরে তিনবার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে। মনে রাখতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশ যেন শুকনো না থাকে এমনকি একটি লোমও না। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গা পানি দিয়ে ধুতে হবে।

৮. সবার শেষে অন্য একটি জায়গায় সরে গিয়ে দুটি পা তিনবার ভালো করে ধুতে হবে। মনে রাখতে হবে: পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।

এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর অজু করতে হবে না (অজু যদি না ভাঙে)।সর্বশেষে আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

সন্তান প্রসবের কষ্ট সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

সন্তান জন্মদানের মাধ্যমেই প্রতিটি নারী জীবনে পূর্ণতা লাভ করে। সন্তান মহান প্রভুর একান্ত রহমত। চাইলেই কেউ সন্তান তৈরি করতে পারে না। আবার সন্তান জন্মদানে গর্ভবর্তী মায়েদের দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট স্বীকার করতে হয়। সন্তান ভূমিষ্টকালীন সময়ে নারীদের জীবনে থাকে অনেক ঝুঁকি। অনেক নারী প্রসবকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করে। নারীদের কষ্ট এখানেই শেষ নয়।

সন্তান ভূমিষ্টের পর দীর্ঘ ২/৩ বছর যাবত অনেক কষ্ট করতে হয়। এ সবের বিনিময়ে রয়েছে অনেক সাওয়াব। আর সন্তানের জন্য গর্ভধারিণী মায়েদের প্রতি রয়েছে অনেক হক বা অধিকার। এ কারণে আল্লাহ তাআলা মায়ের জাতিকে করেছেন সম্মানিত।

হাদিসে পাকে এ ব্যাপারে এসেছে ! হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছেলে ইবরাহিমের পরিচর্যাকারী হজরত সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! শুধু পুরুষদের উত্তম উত্তম সুসংবাদ দেন কিন্তু নারীদের কেন সুসংবাদ দেন না?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার সাথীরা এ কারণে (নারীরা কারণ জানার জন্য) তোমাকে পাঠিয়েছে?তিনি বললেন, হ্যাঁ, তারাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নারীদের জন্য সুসংবাদ) ঘোষণা ইরশাদ করেন !তোমাদের কেউ কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যখন তোমাদের স্বামী তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় তোমরা স্বামীর পক্ষ থেকে গর্ভধারীনী হও, তখন তোমরা আল্লাহর পথে রোযাদারের সমান সওয়াবের অধিকারী হও।

আর যখন প্রসব বেদনা শুরু হয়, তখন আসমান ও জমিনের অধিবাসী কেউ জানে না, তার জন্য চক্ষু শীতলকারী কি পুরস্কার (ছেলে/মেয়ে) লুকায়িত থাকে। আর যখন প্রসব হয়ে যায়, তখন নবজাতকের দুধপানের প্রতিটি ঢোক এবং প্রতিটি চোষণের বিনিময়ে একটি করে নেকী লেখা হয়। আর যদি নবজাকতের কারণে (কোনো নারীকে রাত) জেগে থাকতে হয়, তাহলে প্রতিটি রাতের বিনিময়ে সত্তরটি ক্রীতদাস আল্লাহর রাস্তায় মুক্ত করার সওয়াব দেয়া হয়।’ (তাবারানি)

সন্তান প্রসবের পর দুগ্ধদানকারীনী নারীদের প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মর্যাদা ও সাওয়াবের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন-হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘নারীরা গর্ভধারণ থেকে নিয়ে (সন্তানকে) দুধ ছাড়ানো সময় পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারের ন্যায় সওয়াব পেতে থাকে। আর (এ নারী) যদি এ অবস্থায় মারা যায়, তাহলে শহীদের সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীদেরকে সন্তান জন্মদানের তাওফিক দান করুন। সন্তান প্রসব পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা দান করুন। আমিন।