Tuesday , January 22 2019

এবার শুধু নাসিরের কথাই বললেন ডেভিড ওয়ার্নার

সিলেট এবং কুমিল্লার মধ্যকার ম্যাচটিতে দুই অজি তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্টিভ স্মিথের প্রতিই বেশি নজর ছিলো ক্রিকেট প্রেমিদের। কিন্তু তাঁদের কেউই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ওয়ার্নার ১৪ এবং স্মিথ ১৬ রান করে আউট হয়েছেন আজ। উল্টো তাঁদের পরিবর্তে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছিলেন পাকিস্তানি তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি।

কেননা সিলেটের ছুঁড়ে দেয়া ১২৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামার পর যখন ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিলো কুমিল্লা তখনই ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আফ্রিদি। মাত্র ২৫ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস খেলার মাধ্যমে দলকে এক বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের দারুণ একটি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন ২টি ছয় এবং ৫টি চার। অলোক কাপালির করা ২০তম ওভারের পঞ্চম বলটি সীমানা ছাড়া করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন আফ্রিদি।

ফলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুভ সূচনাই পেলো স্টিভ স্মিথের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।তবে আফ্রিদি জয়ের নায়ক হলেও পার্শ্বনায়ক ছিলেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। তাঁর ৩৪ বলে ৩৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসটি জয়ের ভিত গড়তে অনেকটাই সাহায্য করেছিলো। নিকোলাস পুরানের সরাসরি থ্রোতে রান আউট না হলে হয়তো দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়তেন তিনি।

কুমিল্লার ব্যাটসম্যানদের ওপর এদিন সবথেকে বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছেন শুধুমাত্র নেপালি স্পিনার সন্দীপ লামিচানে এবং পেসার আল-আমিন হোসেন। ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৬ রান খরচায় ২টি উইকেট শিকার করেছেন লামিচানে। যেখানে আল-আমিন ৪ ওভারে ২৭ রানে নিয়েছেন সমান সংখ্যক উইকেট। এছাড়াও ১৯ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফান।

এর আগে ম্যাচটির শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ১২৭ রান সংগ্রহ করেছিলো ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট সিক্সার্স। সিলেটের ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকেই চাপের মুখে রেখেছিলেন কুমিল্লার বোলাররা। দলীয় ৫৬ রানের মাথাতেই ৫টি উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়েছিলো তারা। পাদপ্রদীপের আলোয় থাকায় সিলেট অধিনায়ক ওয়ার্নার মাত্র ১৪ রান করে আউট হয়েছেন তৌহিদ হৃদয়ের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে।

ব্যাটিং করতে নেমে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি সাব্বির রহমানও। তবে সবথেকে ব্যতিক্রম ছিলেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান পুরান। অলোক কাপালির সাথে ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে শতকের কোটা পার করানোর মূল ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ২০ বলে ১৯ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন কাপালি এছাড়াও তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা আফিফ হোসেন ধ্রুবর ব্যাট থেকেও এসেছে ১৯ রান।

কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে সবথেকে সফল ছিলেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মোহাম্মদ শহীদ এবং মেহেদি হাসান। এই তিন বোলারই নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। এছাড়াও শহীদ আফ্রিদি শিকার করেছেন ১টি উইকেট।

ইনজুরি থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি সিলেট সিক্সার্সের অন্যতম অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। তাই বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের প্রথম ম্যাচেই তাঁকে ছাড়া দল সাজাতে হয়েছে সিলেটকে। এবার শুধু নাসিরের কথাই বললেন ডেভিড ওয়ার্নার, দলের অধিনায়ক ফিট নাসিরকে খুব করেই দলে চাইছেন।

দলে নাসিরের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তাঁর অবর্তমানে ব্যাটিং অর্ডারের মাঝের দিকে খেলাতে হচ্ছে তরুণ ক্রিকেটারদের, যা বিপদে ফেলেছে সিলেটকে। দলে নাসির কতটা গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি করছেন ওয়ার্নার।

‘তাঁকে (নাসির) দলে খেলানো হবে কিনা এ নিয়ে দোটানায় ছিল সবাই। আমি নিশ্চিত নই সে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ফিট কিনা। যদি সে ফিট থাকে তাহলে তাঁকে অবশ্যই দলে খেলানো হবে।

‘এই কারণে মিডেল অর্ডারে দুইজন তরুণ ব্যাটসম্যানকে দেখেছেন আপনারা,’ রবিবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা।ব্যাট হাতে দারুণ ভূমিকা পালনের সাথে বল হাতেও অনেক কার্যকরী নাসির। দলে তাঁর না থাকা দুই দিকের অভাবই বোধ করেছে সিলেট।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন নাসির। এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেছিলেন তিনি। ফুটবল অনুশীলনের সময় পায়ের লিগামেন্টের ইনজুরিতে পড়েন নাসির।

এরপর আট মাস খেলার বাইরে ছিলেন তিনি। বিপিএল দিয়ে আবার খেলায় ফিরে আসার কথা থাকলেও এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়ায় খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।