Tuesday , January 22 2019

বরগুনায় পিতাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা

বরগুনা সদর উপজেলায় পিতাকে মারধর করায় শামীম ইমতিয়াজ বাদশাহ মৃধা (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয় টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কামড়াবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের দিন অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষরা সোহরাব মৃধাকে মারধর করে। পরে সোহরাব মৃধার ছেলে উপজেলা যুবলীগের সদস্য বাদশাহ ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতকরা এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তার মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত বাদশার স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মহসিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বাদশার বাবা সোহরাব মৃধার কথা কাটাকাটি হয়।

এ সময় সোহরাব মৃধাকে মারধর শুরু করেন মহসিন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার রাতে মহসিন ও তার সহযোগীরা মিলে বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের বাবা সোহরাব মৃধা অভিযোগ করে বলেন, কামড়াবাদ স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফাঁকা জায়গায় বাদশাকে আটকিয়ে মহসিনের নেতৃত্বে রাকিব ও জাকারিয়া দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এ সময় বাদশা দৌঁড়ে পাশের স্ট্যান্ডে যায় এবং মোবাইল ফোনে আমাকে সব কিছু জানায়। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দলীয় কর্মীর নিহতের খবর পেয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল আহসান মহারাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।