Wednesday , February 20 2019

‘আমাকে যেন ভুলে না যাও…’

অনেকদিন ধরেই হার্টের অসুখে ভুগছিলেন কিংবদন্তি সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। অবশেষে হার্ট অ্যাটাকেই জীবনের অবসান ঘটলো তার।

কিন্তু তবে কি আগেই জেনেছিলেন তিনি সময় খুব অল্প আছে আর! না হলে কেনইবা গত ২ জানুয়ারি তিনি ফেসবুকে লিখবেন ‘আমাকে যেন ভুলে না যাও… তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।’ফেসবুকের শেষ স্ট্যাটাসে এমন কথাই লেখা রয়েছে কিংবদন্তি সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুকালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

কিংবদন্তি এই শিল্পীকে যে মানুষ ভুলবে না তার প্রমাণ মেলে ওই স্ট্যাটাসের কমেন্টেই। সেখানে বহুজন নানাভাবে লিখেছেন তাদের ভালোবাসার কথা। করেছিলেন আরও বহুকাল বেঁচে থাকার প্রার্থনা।

বুলবুলের ওই স্ট্যাটাসের নিচে ফজলুর হক নামে একজন লিখেছিলেন, ‘বুলবুল ভাই, আপনাকে কি ভুলা যায়! আপনি বাংলার গানের বুলবুল, আপনি স্বাধীনদেশের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। যতদিন লাল সবুজের পতাকা থাকবে, আপনিও ততদিন সবার হৃদয়ে চিরজীবী থাকবেন।’

মরিয়ম রুমা নামে একজন লেখেন, ‘আপনার মত একজন গুনী মানুষকে কখনোই ভোলা যায় না…. আপনার সবকিছুই অসাধারন….সবসময় আপনার সুস্থতা কামনা করি আল্লাহর কাছে, আমীন…।’

নার্গিস রহমান নামে আরেকজন লিখেছিলেন, ‘না না ভাইয়া,আপনি ভুলার মানুষ নয়।আপনি বাংলার সম্পদ। আপনার সুর ও গীতিকার আমাদের মনের খাবার যোগায়। আপনি সুস্হ ও সুন্দর থাকুন, দোয়া করবো সারা জীবন।’

কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে শিল্পী পাড়ি দিলেন সেই অমোঘ পথে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজে। এ শহরের ঘুম ভাঙার আগেই জেগে উঠেছে শোক।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুলবুল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন।

‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘আয় রে মা আয় রে’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবনা’- এমন বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা এই শিল্পী।

তিনি প্রেমের জন্য লিখেছেন- আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, ভাড়া কইরা আনবি মানুষ, প্রেমের তাজমহলসহ আরও বহু জনপ্রিয় গান।

ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার পুত্রের নাম সামির আহমেদ।