Tuesday , May 21 2019

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আসছে জিপিআরএস ও সিসি ক্যামেরা মনিটরিং

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর নানামুখী উদ্যোগ নিয়েও রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারছে না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, জেনারেল প্যাকেট রেডিও সার্ভিস (জিপিআরএস)-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বাসের অবস্থান, গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, অতিরিক্ত আইন ভঙ্গ করলে বাতিল করা হবে রুট পারমিট, যাত্রীদেরকে বাসে চড়তে হলে আগেই ক্রয় করতে হবে টিকেট, নিয়ম মাফিক বাস চলাচল করলে দেওয়া হবে পুরুস্কার।

এরকম বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ “ নতুন খসড়া” নীতিমালা তৈরি করেছে।

নতুন এ খসড়া নীতিমালায় বাস চলাচলে কঠোর অবস্থান, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ এবং রিকশা চলালের জন্য ৬০টি ব্লক তৈরির নির্দেশনা কথা উল্লেখ করেছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন “খসড়া এ পরিকল্পনা” পরিবাহন সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদেরকে পাঠানো হবে। এ নীতিমালা নিয়ম মাফিক প্রয়োগ করা গেলে সড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলেও আশা পুলিশের।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি খসড়া নীতিমালা করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে যাবে।

পুলিশের এই কর্মকর্ত আরও বলেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাসগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালনা করা এবং ফুটপাত হকার মুক্ত করা।

তিনি বলেন, ফুটপাত হকারমুক্ত হলে মানুষ হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যেতে পারবেন। অনেকেরই হাঁটার ইচ্ছে থাকলেও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় তা আর হয়ে উঠে না।

নিয়মিত হাটা চলা করলেও নগরবাসী অনেক রোগ থেকেও মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২ শতাধিক পরিবহন কোম্পানির প্রায় ৭ হাজার পরিবহন চলাচল করে। এতে প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ মিলিয়ন ট্রিফ হয়ে থাকে। বিপুল সংখ্যাক এ বাসের চাপে সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশের। এর বাইরে রয়েছে নিয়ম ভঙের হিড়িক। এসব বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মিত কাজের বাইরে বিভিন্ন সময় ট্রাফিক সপ্তাহ, পক্ষ, এমনকি মাস ব্যাপি ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারা। বিশেষ বিশেষ এসব অভিযান চলাকালে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। এমত অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলার জন্য নতুন ভাবে ভাবছে ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিকে শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে নতুন “খসড়া নীতিমালা” করেছে।

নতুন এ পরিকল্পনায় মহাসড়কে বাস চলাচলে কঠোর নিয়ম, রিকশা চলাচলে এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদকে বেশি প্রাধ্যান্য দেওয়া হয়েছে। খসড়া এই নীতিমালায় রিকশা চলাচলের জন্য ৬০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এতে এক ব্লকের রিকশা আরেক ব্লকে গেলে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন এ নীতিমালায় বাসের শৃঙ্খলা আনায়নে করণীয় সম্পর্কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাস ক্রয়ে মডেল নির্ধারণ, শতভাগ যাত্রীকে টিকেট ক্রয়ের পর লাইনে দাঁড়িয়ে বাসে উঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাস চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিমধ্যে বাসের দরজ বন্ধ থাকবে; কোনো ক্রমে দরজা খুলবে না। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে পরিবাহনের গতিবিধি লক্ষ্য করা হবে। নীতিমলায় আরও বলা হয়েছে, সড়কে যে বাস কোম্পানি নিয়ম নীতি মান্য করে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করবেন তাদেরকে পুরুস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে যে কোম্পানির বাস বেশি আইনভঙ্গ করবে তাদেরকে শাস্তিসূরুপ রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ করা হবে। এছাড়া দক্ষ চালক তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া বাস স্টপসগুলোতে ট্রাফিক ডিউটি নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণে ফান্ড গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে খসড়া এ নীতিমালায়।

জানতে চাইলে ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রার্ফিক সিস্টেম বিশেজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগটি সময় উপোযাগী। পথচারীদের জন্য ফুটপাত ক্লিন করে দিতে পারলে হাটার জন্য রাস্তায় নামা কমে যাবে। এতে একদিকে যেমন পথচারী দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে যাবে একই সঙ্গে রাস্তায় নামার কারণে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো সেটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তিনি বলেন, ঢকা মহানগরীতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে মেট্রোরেল, আন্ডার গ্রাউন্ড সাবওয়ে প্রয়োজন। যদি দীর্ঘ মেয়াদী সুফল পেতে হয় এর বিকল্প নেই।

এছাড়া সড়কে চলা বাসগুলো যদি দুই, তিনটি কোম্পানির অধীনে পরিচালিত করা যেতো তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেয়ে আনা অনেক অংশে সম্ভব হবে।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান আরও বলেন, ট্রাফিক পুলিশ যে ট্রাফিক সপ্তাহ বা অন্যান্য যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে একটাই লাভ হয় সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা।