Wednesday , February 20 2019

৪০ বছর আগের যে দুই ঘটনার জন্য এমপি হচ্ছেন সুবর্ণা মুস্তফা

প্রায় ৪০ বছর আগের ইতিহাস বিকৃতির দুই ঘটনায় সুবর্ণা মুস্তফার এই প্রতিবাদী ভূমিকার মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের দেয়া ৪১ জনের তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে তার নাম।

১৯৮০ সাল। জিয়াউর রহমান ও তার বিএনপি ক্ষমতা। ২৬ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মাণ হবে। নাটকটির প্রযোজক ছিলেন প্রয়াত জিয়া আনসারী। নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য সুবর্ণা মুস্তফাকে ডাকা হয়। তখনই সুবর্ণা মুস্তফা যে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন, নতুন করে বলার দরকার নেই। নাটক ও সিনেমার ধুন্দুমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জনপ্রিয়, হার্টথ্রুব অপ্রতিদ্বন্ধী যাই বলেন সব খ্যাতিই তখন তার ছিল। তার সঙ্গে নাটকটিতে অভিনয়ের কথা প্রয়াত হুমায়ূন ফরিদীর। তাকেও ডাকা হয় মিটিংয়ের জন্য।

নাটকটির গল্পটি ছিলে এমন, সুবর্ণার প্রেমিকা মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছেন। তখন সুবর্ণার সংলাপ প্রেমিকার উদ্দেশ্যে, ‘জিয়া আমাদের নেতা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি যুদ্ধে যাও। দেশকে স্বাধীন করো।

সুবর্ণা মুস্তফা এই সংলাপ বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। প্রযোজকের মুখের উপর বললেন, ‘জিয়াউর রহমান কখনো আমাদের নেতা ছিলেন না। এরকম বিকৃতির ইতিহাসের নাটক সুবর্ণা মুস্তফা করে না। তাৎক্ষনিক তিনি ওইমুহুর্তে টেলিভিশন থেকে বের হয়ে আসেন সুবর্ণা মুস্তফা।

এরপরের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায়। বিজয় দিবসের নাটক নির্মাণ হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য। বরকতউল্লাহ ছিলেন এর প্রযোজক। রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন তার বিপরীতে।

নাটকটির একটা সংলাপে বলতে হবে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। যখন সেটা তার চোখে পড়ে। একমূহুর্ত অপেক্ষা না করে নাটকটি করতে অস্বীকৃতি জানান। সরাসরি বলে দেন, যেদিন জয়বাংলা বলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক করতে পারবেন। সেদিন আমাকে ডাকবেন।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত ৪১ জনের নাম ঘোষণার পর প্রশ্ন আসে, সুবর্ণা মুস্তফা কবে আওয়ামী লীগ করেছেন? তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ করার দরকার নেই। এই ঘটনা উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের সবসময়ই আমি মূল্যায়ন করি।