প্রিয় নবীজিকে বিভিন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখার তাৎপর্য কী?

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছেন? স্বপ্নে দেখে থাকলে সে স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সম্পর্কে আপনি কি বিভ্রান্ত? প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখে থাকলে সন্দিহান না হয়ে সে স্বপ্নের ব্যাখ্যায় আসা যেতে পারে। কারণ প্রিয়নবীর সঙ্গে স্বপ্নে সেসব লোকের সঙ্গেই সাক্ষাত হয়, যারা তার একান্ত প্রিয়।

এক হাদিসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে তাঁকে দেখা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে প্রিয়নবীকে স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যার উত্তর। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘যদি কেউ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে স্বপ্নে আমাকে দেখে থাকে, তবে সে সত্যই আমাকে দেখেছে। কারণ শয়তান কোনোভাবেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশ বা অবিকল আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

কেননা যে চোখ প্রিয়নবীকে (ঈমানের সঙ্গে) দেখবে, সে ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়। জান্নাত হয়ে যায় সুনিশ্চিত। তাই প্রিয়নবীকে দেখলে দুঃখ প্রকাশ নয় বরং খুশি হওয়া উচিত। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কেউ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন তবে সে যেন দুঃখিত না হয়।

বরং তাদের খুশি হওয়া উচিত এই কারণে যে, তার জীবনকালে সে একবার প্রিয়নবীকে দেখতে পেয়েছে।’ প্রিয়নবীকে বিভিন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখার তাৎপর্য কী? বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ প্রিয়নবীকে স্বপ্নে দেখে থাকেন। এ সব স্বপ্নের রয়েছে আবার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা ও ইঙ্গিত।

যা মানুষকে সাবধান করে তোলে- -কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবীকে এ অবস্থার ওপর স্বপ্নে দেখেছেন যে, প্রিয়নবী সে ব্যক্তির ওপর নখোশ কিংবা খুশি নন। তবে এ স্বপ্নের মর্মার্থই বা কী হতে পারে? এর মর্মার্থ হলো- আল্লাহর কোনো প্রিয় বান্দা ইসলামের পরিপূর্ণতার পর ইসলামের কথা বা কাজে এমন কিছু করেছেন যা সঠিক পন্থা নয় বরং বিদাআত। যে কারণে আল্লাহর সে প্রিয় বান্দার ঈমান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

– স্বপ্নে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখার মর্মার্থ হলো- ‘আল্লাহর সেই প্রিয় বান্দার ঈমান বা বিশ্বাস দুর্বল হয়ে গেছে। – প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মসজিদে অবস্থান কিংবা মৃদু মেজাজে দেখার মর্মার্থ হলো- ‘আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন।’

– প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোনো দেশে অবস্থান করতে দেখার মর্মার্থ হলো- ‘সে দেশের মানুষ শত্রুমুক্ত হবে এবং সে দেশ সমৃদ্ধি লাভ করবে।’ – স্বপ্নে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শরীরের নির্ধারিত কোনো অংশের উপস্থিতি ছাড়া দেখার মর্মার্থ হলো- সে ব্যক্তির ঈমান বা বিশ্বাস শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এটি অবিশ্বাস হিসেবে পরিচিত। শরীরের যে অংশবিহীন দেখা যাবে, সে অংশে গুরুত্ব অনুযায়ী ওই ব্যক্তি অবিশ্বাসী হিসেবে চিহ্নিত হবে।

– যদি কেউ স্বপ্নে দেখেন যে, প্রিয়নবী শুকনো ফল বিতরণ করছেন, তবে এর মর্মার্থ হলো- ‘তাঁর ওপর সে ব্যক্তির বিশ্বাস অনেক শক্তিশালী।’ – স্বপ্নে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কারো ওপর ক্রোধান্বিত অবস্থায় দেখলে এর মর্মার্থ হবে- সে ব্যক্তির জন্য প্রকৃত পক্ষে এটি ভালো লক্ষণ নয়। বরং প্রিয়নবী ওই ব্যক্তির নখোশ বা রাগান্বিত। – স্বপ্নে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাফন-কাফন করতে দেখলে এর মর্মার্থ হলো- ওই ব্যক্তি যে দেশে বসবাস করছে সে দেশে সমস্যা পড়বে।’

-আর যদি কেউ স্বপ্নে দেখেন যে, প্রিয়নবীর দাফনের পেছনে হাটছেন, তবে এর মর্মার্থ হলো- সে ব্যক্তি ইসলামে বিদাআতের প্রচলন ঘটছে। মনে রাখতে হবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখার অর্থই হলো, সে ব্যক্তির জীবন সফলতায় ধন্য হয়ে যাবে। যদি কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবীকে স্বপ্নে দেখেন তবে সে ব্যক্তি জীবন পরিচালনায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে সক্ষম হবে।

চরম কষ্টে থাকা কোনো ব্যক্তি প্রিয়নবীকে স্বপ্নে দেখেন কিংবা কোনো ঋণগ্রস্তব্যক্তি প্রিয়নবীকে দেখে অথবা কোনো ব্যক্তি প্রবল সমস্যার সময় প্রিয়নবীকে স্বপ্নে দেখেন তবে তাদের সব কষ্ট, ঋণ ও সমস্যা চিরদিনের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যাবে। সুতরাং শুধুমাত্র ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী মানুষ কিংবা তাঁর একান্ত প্রিয় মানুষই তাঁকে স্বপ্নে দেখে থাকেন। পেয়ে থাকেন সঠিক পথে চলার দিক-নির্দেশনামূলক পাথেয়।

ইবনে সিরিনের মতে, ‘যারা প্রিয়নবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রিয় মানুষে পরিণত হন, তারাই স্বপ্নে প্রিয়নবীর সাক্ষাত লাভ করেন। আর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে তাঁর প্রিয় মানুষদেরকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে সতর্কতার ইঙ্গিত প্রদান করেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবীর আদর্শের ওপর অটল ও অবিচল থাকার মাধ্যমে স্বপ্নে তার দিক-নির্দেশনা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।