Wednesday , June 26 2019

আনসার সদস্যের প্রেমে পড়ে সিলেটে ব্রাজিলিয়ান নারী

ব্রাজিলের নাগরিক লুসি ক্যালেন সিলেটি যুবক সাহেদের প্রেমে পড়েছিলেন ১৮ মাস আগে। অবশেষে তার এই প্রেমকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি এসেছেন বাংলাদেশে। এখানে আসার পর ধর্মান্তরিত হয়ে নাম বদল করে রেখেছেন খাদিজা। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। প্রেমের সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে করেছেন প্রেমিককে বিয়েও।

ফেসবুকের মাধ্যমেই মূলত দুজনের সম্পর্কের শুরু। সাহেদ যদিও ইংরেজি তেমন একটা বুঝতেন না বলে জানান।

ব্রাজিল কন্যা লুসি ক্যালেনের বয়স ২৯। তার বাবার নাম সিডনি। ব্রাজিলের বাখজিয়াং এলাকায় তাদের বাড়ী। লুসি ক্যালেন একটি হাসপাতালের হেল্প লাইনে কর্মরত। ১৮ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সিলেটের জকিগঞ্জের বিলপার গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সাহেদ আহমদের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সাহেদ (২৯) পেশায় আনসার সদস্য।

মাত্র ১৫ দিনের জন্য বাংলাদেশে আসা এই প্রেমিকা চলতি সপ্তাহে আবার নিজ দেশে ফিরে যাবেন এবং তার প্রেমিক স্বামী সাহেদকেও সেখানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অনেক ভালো লাগে জানিয়ে গণমাধ্যমকে লুসি জানান, বিবাহ সম্পন্ন করতে ১৫ দিনের জন্য কর্মস্থল থেকে বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তার সাথে বাবা ও মা বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে আসতে পারেননি।

লুসি বলেন, গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তাকে আকৃষ্ট করেছে। স্বামীর বাড়ীতে বেশী সময় কাটাতে আবারো বাংলাদেশে আসবেন লুসি।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলে সাহেদ তাকে গ্রহণ করেন। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবি সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে লুসি ক্যালেন আদালতে উপস্থিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম রাখেন খাদিজা বেগম। পরবর্তীতে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম রীতি অনুযায়ি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন।

তাদের এ বিয়ের খবরটি জানাজানি হলে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাহেদের বাড়ীতে মেম বউ দেখতে ভিড় করেন। লুসি ক্যালেনও নিরাশ করেননি গায়ের মানুষজনকে। সকলের সাথেই তিনি হাসি-খুশিতে কথা বলেন।