Monday , May 27 2019

একটি কারণেই মৃত্যুদন্ড হচ্ছে না ট্যারেন্টের

মৃত্যুদন্ড হচ্ছে না ট্যারেন্টের- মসজিদে হামলা চালিয়ে একিসাথে ৪৯ জনকে মারেন বন্দুকধারী ট্যারেন্ট। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। মুস্লিম দুনিয়ার একটিই দাবী। আর সেটি হচ্ছে তাকে ফাসী দেওয়া। তবে একটি কারণেই ফাসী হচ্ছে না তার।

রীতিমত ট্যারেন্টের শাস্তি নিয়ে চারিদিকে বেশ আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের কোন বিধান নেই। তাদের বিধানে একজন অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

১৯৮৯ সালে নিউজিল্যান্ড থেক মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেওয়া হয়। এযাবৎ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে ৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় যাকে তার নাম ওয়াল্টার বোল্টন।

স্ত্রীকে বিষপানে হত্যার দায়ে ১৯৫৭ সালে তাকে এই দণ্ড দেয়া হয়। এরপর অপরাধী যত বড় হত্যাকাণ্ড করুক না কেন তার শাস্তি সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তাই ট্যারেন্টের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপির সাবেক এমপির পুত্র সেই মসজিদে ছিলেন!

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ওমর জাহিদ মাসুম (৩৪)। বন্ধু-স্বজন ও সহপাঠীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েন। এ সময় একটি গুলি তার পেটের মাংশ স্পর্শ করে চলে গেলে তিনি মৃত্যুর ভান করে অন্যান্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মুসল্লিদের রক্তাক্ত লাশের স্তূপের আড়ালে সটান পড়ে থাকেন।

দীর্ঘ সময় নির্জীব থাকার পর এক পর্যায়ে পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয় তার। একইদিন রাতে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামের বিএনপির প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান দয়াল ও মমতাজ বেগম দম্পতির কনিষ্ট পুত্র ওমর জাহিদ মাসুম।

মাসুমের বড় ভাই অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল ও ভগ্নিপতি সানাউল্লাহ জানান, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও সন্ত্রাসী হামলার সেই ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মাসুমকে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বর্বরোচিত ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিতে গিয়েও বারবার আঁৎকে ওঠছেন।

মুসল্লিদের লাশের মিছিল যেনো দেয়াল তৈরি করে তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিয়েছে। চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাসুম নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসায় স্বজনরা শুকরিয়া আদায় করছেন, করছেন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন।

জানা গেছে, মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) তে উ”চতর ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্টুডেন্ট ভিশায় নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে ওমর জাহিদ মাসুম। পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পান তিনি।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে সস্ত্রীক বসবাস করেন মাসুম। মাসুমের স্জনরা জানায়, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় কিশোরগঞ্জ জেলার অনেক মানুষ বসবাস করছেন। তারা প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় উপলক্ষে তারা আল নূর মসজিদে মিলিত হয়ে থাকেন।

এবার মিয়ানমারে ভারতের অভিযান

পাকিস্তানের পর মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে ভারত। ওই হামলায় কমপক্ষে ১০টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আনন্দবাজার জানায়, পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা নিয়ে দেশ জুড়ে চলা আলোচনার মধ্যেই মিয়ানমারে বড়সড় সামরিক অভিযান চালায় ভারতীয় সেনারা।

সেনা সূত্রে খবর দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ‘অপারেশন সানরাইস’নামে এই অভিযানে ভারতীয় সেনার সঙ্গে ছিল মায়ানমারের সেনারাও। প্রথম অভিযানটি চালানো হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, আর দ্বিতীয়টি ২ মার্চ।

প্রায় ১০ দিন ধরে চলা ওই অভিযানে ১০টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে সেনা সূত্রে খবর। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরাকান আর্মিদের তৎপরতা বাড়ছিল। এই আরাকান আর্মি মায়ানমারের সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী।

মিজোরাম ও মায়ানমার সীমান্তের ঘাঁটি থেকেই জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল আরাকান আর্মি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসে, ওই জঙ্গিগোষ্ঠী কালাদান প্রকল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারপরই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সেনারা।

দুই পর্যায়ে অভিযান চালানো হয়। প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য ছিল মায়ানমার-মিজোরাম সীমান্তে জঙ্গি ঘাঁটিগুলোকে ধ্বংস করা। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের লক্ষ্য ছিল নাগা জঙ্গিগোষ্ঠী এনএসসিএন (খাপলাং)-এর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া।

সেনার স্পেশাল ফোর্স, আসাম রাইফেলসের সঙ্গে মায়ানমার সেনারাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। আর ভারতীয় সেনাদের ওই হামলার সময় ড্রোন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জঙ্গিদের গতিবিধি নজর রাখা হচ্ছিল। জঙ্গিদের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করার পরই হামলা চালানো হয়।

পত্রিকাটি আরো জানায়, চীন সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে গত দু’ বছর ধরে আরাকান আর্মিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি। প্রায় ৩ হাজার ক্যাডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

তার পর তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় মায়ানমারের দক্ষিণ সীমান্তে। সেখান থেকেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাত আরাকান আর্মির সদস্যরা। জঙ্গিদের মদত দেওয়ার পিছনে চীনের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ ভারতের।

কালাদান প্রকল্পকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে আরাকান জঙ্গিরা, গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসার পরই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় সেনারা। ভারত ও মায়ানমার, দুই দেশের ক্ষেত্রেই কালাদান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মায়ানমারের সিতে বন্দরের সঙ্গে মিজোরাম হয়ে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এই প্রকল্প চালু হলে কলকাতার থেকে মিজোরামের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার কমে যাবে।