আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রী সামিয়ার পাশে মোস্তাফিজুর

সামিয়ার পাশে মোস্তাফিজুর- গোপন রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান শুক্রবার বিয়ে করবেন, সেটি জানা হয়েছে আগেই। শুক্রবার বেলা তিনটায় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন বাঁহাতি পেসার।

কনে সামিয়া পারভীন শিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মেয়ের বাবা রওনাকুল ইসলাম সম্পর্কে মোস্তাফিজের মেজ মামা।

কাটার মাস্টারের এই বিয়েটা অবশ্য হয়েছে লোকচক্ষুর অনেকটা আড়ালেই। কিছুটা লুকোচুরিও বলা যায়। গণমাধ্যমকর্মীসহ আত্মীয় স্বজনের অনেকেরই নিশ্চিত করে জানা ছিল না, ঠিক আজই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের এই তারকা পেসার।

তবে মোস্তাফিজ বিয়ে যে করতে যাচ্ছেন, এই খবরটা জানাজানি হয় মিডিয়ার কল্যাণে। স্ত্রী সামিয়া পারভীন শিমুর পরিচয়টাও অনেকের জানা হয়ে গেছে। তিনি মোস্তাফিজেরই মামাতো বোন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

মোস্তাফিজ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সন্তান। স্ত্রী সামিয়া পারভীন শিমু পার্শ্ববর্তী দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর গ্রামের মো. রওনাকুল ইসলাম বাবুর মেয়ে।

দুই পরিবার বিয়ের এই বিষয়টি গোপন রাখতে চাইলেও আদতে সেটা আর গোপন থাকেনি। সবাই-ই জেনে গেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কনের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

তবে আকাশে চাঁদ উঠলে যেমন ঢাকা যায় না। তেমনই আড়ালে থাকেনি মোস্তাফিজের জীবন সঙ্গিনীর ছবিও।

যে কারণে হুট করে বিয়ের পিঁড়িতে মুস্তাফিজ

গত পরশু রাতে হঠাৎ করে গুঞ্জন ওঠে যে শুক্রবার মুস্তাফিজুর রহমানের বিয়ে। গুঞ্জনটাকে সত্যি করে আজ বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজের মেজো ভাই জানিয়েছেন যে মায়ের সিদ্ধান্তেই এভাবে হঠাৎ করে ২৩ বছর বয়সী এই পেসারের বিয়ের আয়োজন।

‘ব্যাচেলর’ থেকে ‘বিবাহিত’ মুস্তাফিজ গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা হওয়া আল নূর মসজিদের খুব কাছেই অবস্থান করছিলেন মুস্তাফিজ-মিরাজরা।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার খুব কাছে থেকেই ফিরে এসে ঘাবড়ে যান ক্রিকেটাররা। মানসিকভাবে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সিরিজ অসম্পূর্ণ রেখেই শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে দেশে ফিরে আসেন তারা।

দেশে ফিরেই সাতক্ষীরায় নিজ গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান মুস্তাফিজ। শুক্রবার (২২ মার্চ) তার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। নাম সামিয়া পারভীন শিমু। মেয়ে মুস্তাফিজের নিকটাত্মীয়ও। তিনি সম্পর্কে মুস্তাফিজের মামাতো বোন ছিলেন।

মুস্তাফিজের ভাই মাহফুজুর রহমান মিঠু বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর থেকেই মুস্তাফিজুর খুব ঘাবড়ে গিয়েছিল। সেইজন্য আমরা ঠিক করি যে তাকে বিয়ে দেয়া হবে। এটা আমাদের মায়ের সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্বকাপের পর বিবাহ পরবর্তী অনুষ্ঠান করা হবে।’

শুক্রবার দুপুর ৩টায় প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ি যান মুস্তাফিজ। এ সময় তার গায়ে ছিল জাঁকজমক শেরওয়ানি। যদিও পরেননি কোনো পাগড়ী।

নিজের পায়ে হেঁটেই বিয়ের মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এরপর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্টার আবুল বাশার ৫ লক্ষ এক টাকা দেন মোহরে মুস্তাফিজ ও তার স্ত্রী সাদিয়া পরভীন শিমুর বিয়ে পড়ান।

মুস্তাফিজ ও শিমুর বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্রিকেট অঙ্গনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনেকটা তাড়াহুড়া করে বিয়ের আয়োজন করায় সবাইকে আমন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

তবে আইসিসি বিশ্বকাপের পর বড় আয়োজনের মাধ্যমে মুস্তাফিজ ও শিমুর জুটি গড়া উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।