Sunday , April 21 2019

প্রস্তুত ইসরাইল .. জবাব দিতে যে কোন মুহুর্তে পাল্টা হামলা ।

ইসরাইলে রকেট হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওয়াশিংটনে থাকা নেতানিয়াহু তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। নেতানিয়াহু আরও বলেন, আমি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করব এবং এর পরপরই আমি ইসরাইলে ফিরে আসব অপারেশন পরিচালনার জন্য।

তিনি বলেন, দ্রুতই এ হামলার জবাব দেয়া হবে।নেতানিয়াহু গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। ইসরাইলে আগামী ৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনি।

সোমবার সকালে উত্তর তেলআবিবে হামলার ঘটনায় ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে- এটি হামাস জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে গোলান মালভূমি ইসরাইল অধিগ্রহণ করার পরই দেশটিতে এ হামলা চালানো হয়।ইসরাইলি পুলিশ জানায়, ধ্বংস হওয়া বাড়ি থেকে হামলকারীদের অবস্থান ২০ কিলেমিটার দূরে।নেতানিয়াহু বলেন, হামলার ঘটনায় আমি আমার যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করেছি। তিনি এটি ‘গুরুতর হামলা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল দ্রুত এ হামলার জবাব দেবে।

এদিকে হামলার পর থেকে গাজার সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছেইসরাইলি সংস্থা জানায়, এ হামলায় একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে একজন ছয় মাস বয়সী শিশু এবং তাদের ছয়জন একই পরিবারের সদস্য ছিলেন।গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের বলে ঘোষণা দেন। এর পরেই ইসরাইলে এ হামলা চালানো হলো। সূত্র: রয়টার্স ও এএফপি।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির মপটি অঞ্চলের দুই গ্রামে শনিবার গুলিবর্ষণ করে অন্তত ১৩৪ মুসলিম আদিবাসীকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। হামলাকারীদের মূল টার্গেট ছিল ইসলাম ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র আদিবাসী ফুলানি সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগ, মালির সেনাবাহিনী হামলাকারীদের অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালাতে সহায়তা করেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

দরিদ্র ফুলানি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে পশু পালন। এ সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষই রাখাল। এমন সময়ে তাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটলো যখন ক্রমবর্ধমান জাতিগত বিদ্বেষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন জাতিসংঘের একাধিক দূত।

এ হামলাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রতিবেশী গ্রাম ওউঙ্কোরোর মেয়র চিক হারাউনা সানকার। ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী শহর বানকাসের মেয়র মুলাই গুইন্দো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১৩৪টি মরদেহের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ওগোসাগু গ্রামের চারদিক থেকে ঘেরাও করে হামলা শুরু করে বন্দুকধারীরা। এরপর সেখান থেকে নিকটবর্তী আরেক ফুলানি গ্রাম ওয়েলিংগারাতে হামলা চালায় ঐতিহ্যবাহী ডগন শিকারিদের পোশাক পরিহিত বন্দুকধারীরা।

বন্দুক ও চাপাতি নিয়ে আদিবাসী ফুলানি সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। হামলায় নিহতদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আধা যাযাবর ফুলানি সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মালির ডগন শিকারিদের বিবাদ অনেক পুরনো। উভয় পক্ষের মধ্যে জমি ও পানির দখল নিয়ে বিরোধ চলছে।

তবে শনিবারের ঘটনায় হামলাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে দুষছে আদিবাসী ফুলানি সম্প্রদায়।এর আগে মালিতে ফুলানি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে শুক্রবার মালির দেশটির একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী।