Sunday , April 21 2019

এএসপি মিজানকে গাড়িতে উঠিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যা করলো…..

সাভার হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়া রোববার ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামি ফারুক হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পশ্চিম) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, গত সপ্তাহে তিনি দুইজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

পলাতক ফারুক হাওলাদার ছাড়া অপর আসামি হলেন শাহ আলম ওরফে বুড্ডা, যিনি কারাগারে আছেন। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এছাড়া দুই আসামি মো. জাকির হোসেন ও আয়নাল হক ওরফে এনামুল হক ওরফে মিন্টু গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আর কামাল নামে আরেক আসামির নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে তার পুরো নাম ঠিকানা না পাওয়ার কারণে।

২০১৭ সালের ২১ জুন রূপনগর থানার বিরুলিয়ার ঢাকা বোর্ড ক্লাবের পূর্ব পাশে জঙ্গল থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাসুম তালুকদার বাদী হয়ে রূপনগর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে খুনের মামলা করেন। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, এএসপি মিজান ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন আসামিরা সবাই ইয়াবা খায়। অনুমান ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে জসীম উদ্দিন রোডের দিকে মুখ করে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ড্রাইভিং সিটে জাকির, তাঁর বামপাশে শাহ আলম বসা ছিল। মিন্টু, কামাল ও ফারুক যাত্রীবেশে নিচে নেমে লোক খুঁজছিল। হঠাৎ একজন মোটা লোককে ব্যাগসহ আসতে দেখেন। তখন মিন্টু সালাম দিয়ে বলেন, তাঁরা এয়ারপোর্টে যাবেন। লোকটিকে গাড়িতে উঠিয়ে জাকির জোরে গান বাজাতে থাকে।

লাইট বন্ধ করে দিয়ে গাড়ি জসীম উদ্দিন রোড হয়ে মোড় নিয়ে হাউস বিল্ডিং যায়। পরে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের দিকে চলে যায়। তখন গাড়ির পেছনে সিটে বসা মিন্টু লোকটির মাথায় আঘাত করেন। গাড়িতে থাকা ঝুট কাপড়ের টুকরা দিয়ে গলায় প্যাঁচ দেয়। কিছুক্ষণ পর আর লোকটির সাড়া শব্দ থাকে না। পরে তাঁরা জঙ্গলে লাশ ফেলে পালিয়ে যান। আসামিরা টিভি সংবাদে জানতে পারে, যে লোকটিকে তাঁরা খুন করে ফেলে রেখে এসেছেন, তিনি পুলিশ অফিসার। নাম এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার। শাহ আলম, জাকির, মিন্টু, ফারুক ও কামাল মিলে এএসপি মিজানকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে কামালের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

নিহত এএসপি মিজান সাভার হাইওয়ে পুলিশ কর্মরত ছিলেন। নিহতের মেয়ে ও মামলার সাক্ষী সুমাইয়া আক্তার বৃষ্টি ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে বলেন, তাঁর বাবা সেদিন সাহরি খেয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে ভোর রাত সাড়ে ৪ টা থেকে ৫টার সময় রওনা হয়ে খুন হন।