Sunday , April 21 2019

“অন্ধকারে ঢেকে যাবে ঢাকা , জঙ্গি হামলার আশঙ্কা, প্রস্তুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী “

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার (২৫ মার্চ) রাত ৯টায় বন্ধ করে দেওয়া হবে সব আলো। ব্ল্যাক আউটের মধ্য দিয়ে দেশবাসী স্মরণ করবে ১৯৭১-এর এই দিনে গণহত্যার শিকার হওয়া শহীদদের।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চ কালরাত বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত। সেই রাতটিকে স্মরণ করতে সোমবার রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হবে। এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এই আয়োজন বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আগামী প্রজন্মকে সেদিনের ভয়াবহতা জানাতে হবে। আলো জ্বেলে আমরা যেমন স্মরণ করি তেমনই কালরাতের অন্ধকার আমাদের বুঝতে সহায়তা করবে কী ভীষণ বিভীষিকার ছিল সেদিন।’

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি স্থাপনা ও চলমান যানবাহন ছাড়া সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে।

এবার ৪৪ রাউন্ড গুলিসহ রাজধানীর দারুসসালাম থানার আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মাজহারুল আনামকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের প্রথম গেটেই তাকে ওই গুলিসহ আটক করেন নিরাপত্তাকর্মীরা।পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হলে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

বিমানবন্দর থানার এসআই মশিউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মাজহারুল আনামের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে করে কক্সবাজারে যাওয়ার কথা ছিল। এ সময় বিমানবন্দর গেটে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ৪৪ রাউণ্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

গলা কেটে ঘুমন্ত স্বামীকে- পরকীয়ার জেড়ে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখে পাশেই বসে থাকেন স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমু (২৫)। ছেলের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ টের পেয়ে স্বামীর মা-বাবা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই পালিয়ে যান ঘাতক স্ত্রী।

শ্বাসনালী অক্ষত থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান স্বামী রুমান মৃধা (৩০)। পালিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি শিমু। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার কেয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ ও জনতার হাতে ধরা পড়ে যান তিনি।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁধাল গ্রামের নজির মৃধার বাড়িতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটেছে।

ওই রাতেই পুলিশের সহায়তায় পরিবারের লোকেরা মুমুর্ষূ অবস্থায় রুমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় রুমানের মা বাদি হয়ে শনিবার দুপুরে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বাদি আহত রুমানের মা রেনু বেগম জানান, রাত আড়াইটার দিকে ঘরের মধ্যে গোঙানির শব্দ শুনতে পান তিনি। বউয়ের কাছে কিসের শব্দ জানতে চাইলে সে বলে বিড়ালেরা ঝগড়া বাঁধিয়েছে।

তখন ছেলের বাবাকে (নজির মৃধা) ঘুম থেকে উঠিয়ে রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি রুমানকে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ঘরের মেঝে ও বিছানা রক্তে ভেজা। লেপ সরিয়ে ছেলেকে গলা কাটা অবস্থায় দেখে তারা চিৎকার, কান্নাকাটি করতে থাকেন। আশপাশের লোকজন আসার আগেই ঘাতক স্ত্রী শিমু ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান।

রেনু বেগম জানান, তার ছেলে ‘গ্রুপ ফোর’ নামের একটি ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি করে। রুমান যশোরে কর্মরত অবস্থায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল এলাকার শেখ হারুন অর রশিদের মেয়ে কুমকুম আক্তার শিমুর সাথে মোবাইলে পরিচয় হয়।

শিমু তখন ঝিনাইদহে একটি বায়িং হাউসে কাজ করতো। একপর্যায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় আট মাস আগে তারা নিজেরাই বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই শিমু তাদের বাড়িতেই থাকে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনোদিন ঝগড়াঝাটি হয়নি।

তিনি আরো জানান, ছেলে বাড়িতে না থাকলে বউ গোপনে মোবাইলে কথা বলতো। তাদের ধারণা, বউয়ের অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে। তার ছেলেকে হত্যা করে বউ হয়তো অন্য প্রেমিকের সাথে যেতে চেয়েছিলো।

অপরদিকে, স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমু অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী যৌতুৃকের জন্য তাকে মারধর করতো। নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীকে গলা কেটে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আসাদুজ্জামান স্বপন জানান, রাতে ওই বাড়ি থেকে রুমানের এক চাচাতো ভাই মোবাইল ফোনে তাকে ঘটনা জানান। সাথে সাথে তিনি থানায় ফোন করে জানালে দ্রুত পুলিশ এসে রুমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় পুলিশ ও এলাকাবাসী তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায় ভোর চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন কেয়ার বাসস্ট্যান্ড থেকে শিমুকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার জানান, ঘটনায় ছেলের মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমুকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে চেষ্টা চলছে।