Tuesday , May 21 2019

এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড : অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন তিনি…

অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখা ফায়ার কর্মী সোহেল রানা সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সোমবার (৮ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহফুজ বলেন, রাত ২টা ১৭ মিনিটের দিকে সোহেল শেষ নিঃস্বাশ ত্যাগ করেন। তার বাড়ি কিশোগঞ্জে।

বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভাতে ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজে অংশ নিয়েছিলেন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা। সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার বজলুর রশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন তিনি।

বজলুর রশীদ জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই বড় স্বয়ংক্রিয় মই (লেডার) দিয়ে ভবনে পানি দিচ্ছিলাম। লেডারে করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনছিলাম। সোহেল রানা একটি লেডারে ছিল। একটি লেডারে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জন লোক ধরে। এর বেশি আনা যায় না। সোহেল রানা এবং আরও দু’জন ফায়ারম্যান একটি লিডার নিয়ে আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে। কিন্তু লেডারে জায়গা হচ্ছিল না।

আটকে পড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা লেডারের সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিল। কিন্তু লেডারটি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে আসছিল, তখনই হঠাৎ করে সোহেল রানার পা মইয়ের ভেতরে আটকে গিয়ে ভেঙে কয়েক ভাগ হয়ে যায়। একই সময়ে চাপ লেগে তার পেট ছিদ্র হয়ে যায়। তার পেটের নাড়ি ছিদ্র হয়ে যায়। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গারপুর পাঠানো হয় সোহেলকে। সোহেল রানার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। বাবা নুরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। রানার আহতের খবরে পুরো পরিবার ঢাকায় চলে আসে। কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনে তাদের রাখা হয়। চার ভাই একবোনের মধ্যে রানা দ্বিতীয়।

সোহেল রানা ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসতেন বলে জানান তার মামা। ফায়ার সার্ভিসে ফায়ারম্যান পদে ২০১৫ সালে যোগ দেন রানা। ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া পীরের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মাদারীপুরের কলাবাড়িতে ট্রাকের ধাক্কায় ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে এর ১০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ৪০ জন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কলাবাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া পীরের বাড়ি থেকে মুরিদানদের নিয়ে ফিরছিল মাদারীপুরের একটি লোকাল বাস। সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি কলাবাড়ি ব্রিজের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরো তিন জন। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।

নিহত ও আহতদের প্রায় সবাই মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ কামরুল হাসান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাসের নিচে আরো লাশ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

টেকনাফের সেন্টমার্টিন এলাকার নিরাপত্তায় ফের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে ভারি অস্ত্রসহ বিওপি ক্যাম্প স্থাপনের লক্ষ্যে দ্বীপটিতে নিয়মিত মহড়া দেওয়ার পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে তৎকালীন বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) মোতায়েন ছিল।

সেন্টমার্টিনের বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাহিনীটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহসীন রেজা জানান, সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তায় বিজিবির যতজন সদস্য দরকার সেই কজন মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন থেকে বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা আটক করেছে কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। বিভিন্ন সময় ওই এলাকায় দস্যুতার ঘটনাও ঘটেছে। টেকনাফ থানার একটি ফাঁড়ি রয়েছে সেন্টমার্টিনে। তবে বর্তমান সরকার মনে করছে, সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন দরকার। তাই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

টেকনাফ-২ নম্বর বিজিবির অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বিজিবি ছিল। এরপর থেকে সেখানে বিজিবির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এত দিন ধরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই সীমানা পাহারা দিয়ে আসছিল। কিন্তু এবার সেন্টমার্টিনে বিজিবির একটি বিওপি স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। তাই সেখানে টহল দিচ্ছে বাহিনীটি। এটা নিয়মিত টহলের অংশ।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, প্রতিদিন বিজিবির সদস্যদের নিয়ে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মহড়া চলবে। তবে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে ভারি অস্ত্রের যে খবর এসেছে তা সঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবেই টহল করছে বিজিবি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কোস্টগার্ডের পাশাপাশি বিজিবিও কাজ করবে। তাই বিজিবি সেন্ট মার্টিনে টহল শুরু করেছে। বিওপি স্থাপনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এতে করে সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তের নানা অপরাধ দমনে অনেকটা সহায়ক হবে।

এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করেছিল মিয়ানমার। দেশটির জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর মিয়ানমার মানচিত্র থেকে সেটি পরিবর্তন করে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার সংলগ্ন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সৃষ্টি থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। ব্রিটিশ শাসনাধীন ১৯৩৭ সালে যখন বার্মা ও ভারত ভাগ হয় তখন সেন্টমার্টিন ভারতে পড়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় সেন্টমার্টিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের ধরে নিয়েই মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়।