Sunday , April 21 2019

এইমাত্র পাওয়া তাজা ব্রেকিং নিউজঃ রাজধানীর মগবাজারে ভয়াবহ আগুন, জানুন বর্তমান অবস্থা…

রাজধানীর মগবাজার কাজী অফিসের একটি গলিতে আগুণ লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কন্টোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন।

তিনি বলেন, কাজী অফিসের একটি গলিতে ১৫ নম্বর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। দুপুরের দিকে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।

এবার আগুনে পুড়লো, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কামারপট্টি বস্তি এবং কাঁচাবাজার। এ ঘটনায় হতাহত না হলেও, পুড়ে গেছে বহু ঘর ও দোকানপাট। সব হারিয়ে নিঃস্ব শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গভীর রাতে লাগা আগুন দুই ঘণ্টারও বেশি চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট।

আগুন যেনো নিভছেনা কিছুতেই। লেলিহান শিখা পুড়িয়ে দিচ্ছে পোড় খাওয়া কিছু মানুষের স্বপ্ন।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কামারপট্টি বস্তিও পুড়লো সেই দাবানলে। গভীর রাতে রেললাইনের পাশের দুই বস্তি ও কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। দাউ দাউ করে পুড়ে যায় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান।

হঠাৎ করে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কামারপট্টির ব্যবসায়ীরা। একদিন আগেও যে চোখে ছিলো ভবিষ্যতের স্বপ্ন, এখন সেখানে শুধুই নিকষ অন্ধকার।

আগুন নেভাতে একে একে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

এদিকে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় একটি ফিলিং স্টেশনের পাশে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (০৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে জানা গেছে। আগুনের ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বারিধারা সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, ৯৯৯ থেকে আমাদের কাছে ফোন আসে যে, ফিলিং স্টেশনের পাশে আগুন লেগেছে। তবে কিছুক্ষণ পরেই আবার জানানো হয়েছে আগুন নিভে গেছে। এছাড়া আগুনের সূত্রপাত সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে পাশে রাখা কোন ইকুইপমেন্ট থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, গতকাল রাত ৩টার দিকে খিলগাঁও কাঁচাবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের ৩ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ব্যবসায়ীরা।
কি কেউ আমার বাবাকে দেখছ?

পুরানো ঢাকার চকবাজারে মৃত্যুপুরীর সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে সুলতানা, বুধবার রাতে যেখানে ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিয়েছে ৮১ জনের জীবন। গুরুতর জখম অনেকে। সংখ্যা পঞ্চাশ জনের উপরে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

আগুন লাগার পর থেকেই সুলতানার বাবা জয়নাল নিখোঁজ। ‘উনি আমায় গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ফোন করেছিলেন, বলেছিলেন সঈদ চাচার চা দোকানে আড্ডা মারছেন। আর তারপরেই আগুন লাগে। সেই থেকে আব্বার ফোনে কোনও সাড়া নেই।’ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন সুলতানা।

এবং সুলতানা একা নন। তাঁর মতো আরও অনেকেই স্বজনের খোঁজে অধীর অপেক্ষায়। অনেকেই ছুটছেন আবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এখানেই নূর আনহা খুঁজে চলেছেন তাঁর ভাইকে। ‘এখনও ভাইয়ের কোনও খোঁজ নেই, এখানে মর্গের লোকেরা আমায় বললেন লাশগুলিকে এখনও শনাক্ত করা যাচ্ছে না।’

চকবাজারের একটি মসজিদের ঠিক পিছনেই ওয়াহেদ ভবনে আগুন লাগে রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আগুন লাগে পাঁচতলা ভবনের একতলায় রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামে। ফলে দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পাশে ছিল পারফিউমের কারখানা। আগুন ছড়াতে তাই সময় নেয়নি। এমনকি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের চারটি বাড়িতেও। নিচে রাখা গ্যাস-

চালিত গাড়ি, আর তাতে সিলিন্ডার বোঝাই থাকায়, সেগুলিরও বিস্ফোরণ ঘটে। এমনিতেই চকবাজার এলাকার বাড়িগুলি একে অপরের প্রায় গা ঘেঁষে উঠেছে। সঙ্কীর্ণ গলিপথ। সেকারণে দমকল প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলেও, রাস্তা সরু থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়ে। বহুতলগুলিতে প্রচুর মানুষ আটকে পড়েন। এরমধ্যেই আগুনের ছোবলে ঝলসে, অথবা বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়।

দমকল বিভাগে কন্ট্রোল রুমের মুখপাত্র কামরুল আহসান নিহতের সংখ্যা ৮১ বলে নিশ্চিত করেছেন, যদিও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধিকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন ৭৮। নিহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চকবাজারের আগুন মনে করিয়ে দিয়েছে ন’বছর আগে নবাব কাটরার নিমতলির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে। তাতে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চকবাজারের মতো নিমতলির সেই বহুতলটিতেও চিল রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম। ২০১০ সালের জুনের সেই ঘটনার পর দমকল বিভাগ, র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটিলিয়ান এবং পুলিশকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি টাস্কফোর্স। কিন্তু তারপর গত ন’বছরে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরানো হয়নি কোনও রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম।

এই ঘটনায় তাই মেয়র সাঈদ খোকনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তাদের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। এক বিবৃতিতে পার্টি বলেছে, সেসময় বলা হয়েছিল ঘনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক দ্রব্য মজুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার, ও কর্তৃপক্ষ সেকথা রাখেনি। অন্যদিকে, গাড়িতে ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহকারী সিলিন্ডার নিরাপদ না হওয়া ও নিম্নমানের হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে বিস্ফোরণের ঘটনা।