Sunday , April 21 2019

কায়েস দলের বিরুদ্ধে যে ঘোষনা দিলেন…..

কি অবাক হচ্ছেন? নিউজের টাইটেল টি দেখে? না অবাক হবার কিছুই নেই। এই রকম নিউজ পাবার জন্য ইমরুলের ভক্তরা বসে আছে, কিন্তু কেন ইমরুল কে দল থেকে বাদ দেওয়া হলো জেনেনিন,

ওপেনিং নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই ভুগছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সঙ্গে ধারাবাহিক থাকতে পারছেন না কেউই। তবে তামিমের সাথে ইমরুল কায়েসের বোঝাপড়াটা তুলনামূলক বেশ ভালো। দলকে বেশ কিছু কার্যকর জুটিও উপহার দিয়েছেন এই দুইজন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিষ্প্রভ অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। হারিয়ে ফেলেছেন ফর্ম। ইনজুরির পাশাপাশি ফিটনেস সমস্যায়ও ভুগছেন তিনি। ফলে নির্বাচকরা তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। সেই তুলনায় এগিয়ে ছিলেন লিটনই। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে মোহামেডানের হয়ে বেশ কিছু ঝলমলে ইনিংসও আছে তার। তাছাড়া হাত খুলে খেলতে পারেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান।

ইমরুল কায়েসের ঘরের মাঠে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দু’দুটি ম্যাচসেরা হওয়ার কৃতিত্ব আছে। ড্যাশিং ওপেনার তামিমের সঙ্গে ধীরস্থির ইমরুলের জুটিও জমে ভালো। তাদের রসায়নটাও ভালো বলেই গণ্য করা হয়।

এমনকি গত বছর এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ম্যাচ বাঁচানো অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস রয়েছে। এছাড়া ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি সেঞ্চুরির কাছাকাছি ইনিংস রয়েছে তার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৪৪, পরের ম্যাচে ৯০ এবং তৃতীয় ম্যাচে করেছিলেন ১১৫ রান। তামিম ইকবালের ইনজুরির কারণে সুযোগ পেয়ে এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু কঠিন সত্য হলো, ইমরুলের ব্যাটের সেই ধার আগের মতো নেই। অনেকটাই নিষ্প্রভ, নিস্পৃহ। সঙ্গে ইনজুরি আর ফিটনেসজনিত সমস্যাও আছে। তাই তাকে বিশ্বকাপ দলের জন্য বিবেচনায়ই আনা হয়নি।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড :

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, আবু জায়েদ রাহী, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে একটিও ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকা জায়েদ নিজেও অবাক বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে! ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি। চোটের কারণে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে জায়গা হলো না মাশরাফি বিন মুর্তজার। সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁদলেন। ৮ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে আবু জায়েদ জানালেন, মাশরাফির সেই কান্নাই ছিল তাঁর প্রেরণা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে চমক হচ্ছেন আবু জায়েদ। একটিও ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকা জায়েদ নিজেও অবাক বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ৮ বছর আগে মাশরাফির সেই কান্না

কেউ বলছেন, ‘হরিষে বিষাদ’! কেউ আবার বলছেন, এখানে ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’ প্রবাদটাই বেশি খাটে। বিসিবি একাডেমি ভবনের যেখানে দাঁড়িয়ে খানিক আগে কাঁদলেন তাসকিন আহমেদ, সেখানেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানালেন আবু জায়েদ।

কেউ হরিষে হাসবেন, কেউ বিষাদে ভেঙে পড়বেন, জীবনই এমন। আরও মিল দেখুন, আজ দুজনেরই মনে পড়ছে ২০১১ বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মুর্তজার সেই কান্না। তাসকিনের মনে পড়ছে বাদ পড়ায়। আর আবু জায়েদের মনে পড়ছে সুযোগ পেয়ে।

৮ বছর আগে মাশরাফির কান্না স্পর্শ করেছিল সবে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে পা রাখা আবু জায়েদকে। তিনি সেদিন বুঝেছিলেন, একজন খেলোয়াড়ের কাছে বিশ্বকাপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ‘ভাইয়ের ওই কান্না দেখে অনুভব করেছিলাম, বিশ্বকাপের মর্যাদা কতটা, বিশ্বকাপের গুরুত্ব কতটা। একটা সিরিজ-টুর্নামেন্ট খেলতে না পারলে এত কষ্ট লাগে না। যতটা লাগে বিশ্বকাপ না খেলতে পারলে। এই টুর্নামেন্টের মর্যাদা অনেক। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখেছি বিশ্বকাপের।’

আলোচনায় না থেকেও বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে ভীষণ অবাক আবু জায়েদ। তাঁর ধারণা ছিল হয়তো ২০ জনের দলে থাকবেন। কিন্তু নির্বাচকেরা চমকে দিয়ে তাঁকে রেখেছেন ১৫জনের দলে। আবু জায়েদও প্রস্তুত আস্থার প্রতিদান দিতে, ‘বল সুইং করাতেই আমাকে নেওয়া। মাশরাফি ভাইও বলেছেন, বল সুইং করানোর চেষ্টা করিস, ভালো জায়গায় বোলিং করবি। আমি আশাবাদী, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

আবু জায়েদের আদর্শ জিমি অ্যান্ডারসন। ইংলিশ পেসারের মতোই তাঁর বোলিং অ্যাকশন। এখন অ্যান্ডারসনের মতো দুর্দান্ত সুইং করাতে পারলেই হয়! বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে একটা স্বপ্নই পূরণ হয়েছে আবু জায়েদের। যাঁর কখনোই ওয়ানডে খেলা হয়নি, তিনিই কিনা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। ৫ টেস্ট ও ৩ টি-টোয়েন্টি খেলা আবু জায়েদকে চেয়েছেন কোচ-অধিনায়ক দুজনই।

কিছুদিন আগে তাঁকে নিয়ে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘এখন আমাদের এই একটা পেসার যে আসলেই বল সুইং করাতে পারে।’ তাসকিন আহমেদকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আর ইংলিশ কন্ডিশন বিবেচনায় ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আবু জায়েদকেই দলের পঞ্চম পেসার হিসেবে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকেরা।