Sunday , April 21 2019

ব্রেকিং নিউজঃ খালেদার আইনজীবীর আবেদন মঞ্জুরঃ যে নতুন নির্দেশ দিলো আদালত…

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যন্যা আসামির বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতির মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি আগামী ৩০ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

(১৭ এপ্রিল) মামলাটি অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষে আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন,’যেহেতু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি এবং

মামলার আলামতসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখনও সেসব নথি হাতে পাইনি। তাই অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানো হোক।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বকশি বাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভুইয়া এসব তথ্য জানান।

এদিন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল অভিযোগ গঠন শুনানি করেন। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ৫(২) ধারায়,দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করার জোড় দাবি জানান।

এর আগে ১০ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বিশেষ আদালত।

অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার (মৃত), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল,

এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌসচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লি.(গ্যাটকো) এর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, একেএম মোশাররফ হোসেন ।
বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতি পেলেই সংসদে যাবে বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য। কারাবন্দী বেগম জিয়ার মতামত নিতে খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাচ্ছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন বিএনপি নেতারা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই একদিনের মধ্যেই তাদের বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগার থেকে বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়।

সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে তিনি অবস্থান করছেন। সরকার এবং বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সমঝোতার অংশ হিসেবেই বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধুতে আনা হয়েছে। বেগম জিয়ার প্যারোলের শর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া এবং সংসদে যোগ দেওয়া। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি থেকে যারা শপথ নেননি, তাদের আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে হবে, না হলে তাদের আসন শূন্য ঘোষিত হবে।

ইতিমধ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুজন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান শপথ নিয়েছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আজ বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আমি আশা করছি খুব শিগগির জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাকিরাও শপথ নেবে। এই প্রক্রিয়া চলছে।’

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন, এই শর্তেই বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। বেগম জিয়ার প্যারোলের ব্যাপারে যে পাঁচ শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো-

১. বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে যোগদান করবেন।

২. তারেক জিয়া দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাড়াবেন।

৩. বিএনপি আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবে।

৪. প্যারোলে মুক্ত হয়ে বেগম জিয়া কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না।

৫. বেগম জিয়া বিদেশে যাবেন না।

জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সঙ্গে সমঝোতার কাজটি করছেন। তার অনুরোধেই সমঝোতা আলোচনাকে এগিয়ে নিতে, বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুতে আসতে রাজী হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির বেশ ক’জন শীর্ষ নেতাই প্যারোলে সমঝোতার শর্তগুলো সম্পর্কে জানেন। তবে, এদের অনেকেই এই শর্ত শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া মানবেন না বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, দ্বিতীয় শর্তেই আটকে যাবে সমঝোতা। কারণ, তারেক জিয়াকে বিএনপি থেকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা এখন বেগম জিয়ারও নেই। তবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এনিয়ে বেগম জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের কয়েক দফা কথা হয়েছে। বেগম জিয়াও এখন তারেক জিয়াকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরাতে চান। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে যে সিনিয়র নেতারা যাবেন, তারাও আপাতত: তারেক জিয়া মুক্ত বিএনপি চান। কিন্তু এসব সমঝোতায় বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সমস্যা হলো তিনি শেষ পর্যন্ত হঠাৎ করে মত বদলে অনড় হয়ে যান।সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার।