Saturday , April 20 2019

নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়া সেই মনিকে যে শাস্তির ঘোষনা দেয়া হল…

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া কামরুন্নাহার মনির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ ১৭ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে মনিকে আদালতে হাজির করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম। এরপর আজ শুনানি শেষে বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে তিনটি বোরকা কেনার দায়িত্ব ছিল কামরুন্নাহার মনির। এরপর মাদরাসার ছাদে নুসরাতের বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে বলে সেই নুসরাতকে ডেকে নিয়ে যায়। গায়ে আগুন দেওয়ার সময় জড়িত আরেক নারী উম্মে সুলতানা পপিকে শম্পা নামে ডেকেছিল এই মনিই।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় বোরকা পরা ৪/৫জন নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে হাত-পা বেঁধে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান প্রতিবাদী নুসরাত জাহান রাফি।

ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সহপাঠী কামরুন্নাহার মনিকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।
সোমবার রাতে ফেনী শহরের একাধিক এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার পুলিশ রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানায় পিবিআই। ফেনী পিবিআইর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার আসামি হিসেবে মো. শামীমকে সোমবার বিকালে ও মনিকে রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা উভয়ই সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী।

আটক কামরুন্নাহার মনি নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের সম্পর্কে ভাগনি এবং আলিম পরীক্ষার্থী। হত্যার দিন এক লিটার কেরোসিন বহন করে মাদরাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন কামরুন্নাহার মনি। তদন্ত সাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

শামীম ও মনির গ্রেফতার নিয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মামলায় এজাহারের বাহিরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার রয়েছেন কেফায়েত উল্লাহ জনি, সাইদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি, নূর হোসেন ও আলাউদ্দিন।

এর আগে সহপাঠী উম্মে সুলতানা পপিকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখায় পিবিআই। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম জানান, নুসরাতের মতো পপিও এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন পপি নুসরাতের কাছে এসে খবর দেয় ছাদে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে।

এ খবর পেয়েই নুসরাত দ্রুত ছাদে ছুটে যায় এবং সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার অনুসারীরা নুসরাতের ওপর হামলা করে এবং তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীরা উম্মে সুলতানা পপিকেই শম্পা নামে ডেকেছিল। শম্পা ঘাতকদের সাহায্য করেছিল।

পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিতে (ডাইং ডিক্লারেশন) শম্পার নাম বলেছিলেন। যে চারজন বোরকাপরা নারী বা পুরুষ তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, শম্পা ও মনি থাকার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন দগ্ধ নুসরাত।

এ ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া সন্দেহভাজন যে ছয়জনকে আটক করা হয় তার মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ছিল। তবে পপিই যে শম্পা তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করেছিল ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর থেকেই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

১০ এপ্রিল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জুমবাংলানিউজ/এসওআর