Tuesday , May 21 2019

মানিকগঞ্জে মা-মেয়েকে ধর্ষণঃ আসামি কে জানলে অবাক হবেন ।

মানিকগঞ্জে মা-মেয়েকে ধর্ষণ মামলার আসামি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলীকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে নির্যাতিতা মা ও মেয়ের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা।

এদিকে, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন নির্যাতিতা মা ও মেয়ে। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মা ও মেয়ে জানান আসামি ধরা হয়নি তাই তারা খুব ভয়ে থাকেন। রাতে বেরও হতে পারেন না। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো হানিফ সরকার।

আর ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা পেলে দল থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নালী ইউনিয়ন মানিকগঞ্জ নালী ইউনিয়নের ঘিওরের সভাপতি মো মধূ মিয়া। এদিকে, শুক্রবার সকালে ঘিওর উপজেলায় মানববন্ধন থেকে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানান এলাকাবাসী। সুশীল সমাজ বলছে, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়।

চার বছর আগে ধার নেয়া টাকা ফেরত চাইলে কৌশলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে আসামী বখাটে মোহাম্মদ আলী। গত সোমবার নির্যাতিতার ১৪ বছরের মেয়েকে পড়ানোর নামে ডেকে স্ত্রীর সহায়তায় ধর্ষণ করে আলী।এ ঘটনায় মঙ্গলবার সদর থানায় নির্যাতিতা গৃহবধূ মামলা দায়ের করেন।

সূত্রঃ সময় টিভি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে লুৎফর রহমান (৫০) নামে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার প্রধান শিক্ষককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা সদরের বুড়িরবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লুৎফর রহমান উপজেলার বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশেই।

শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্ন অজুহাতে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করতেন।

গত সপ্তাহে ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পকেটে টাকা আছে কি-না দেখার অজুহাতে তার বুকে হাত দিয়ে বাথ রুমে আসতে বলেন প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান। বাথ রুমে গেলে তাকে ২০ টাকা দেয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা ওই ছাত্রীর সাময়িকভাবে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার প্রার্থী হন। সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পরিবারের লোকজন বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

একইভাবে আদিতমারী থানাও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা। আদিতমারী থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে উপজেলা সদরের বুড়িরবাজার থেকে গ্রেফতার করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রেফতার প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে ওই ছাত্রীর এক আত্মীয় অভিযোগ করেছিলেন। সে অভিযোগে বিদ্যালয়ের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমাকে নাজেহাল করতে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদিতমারী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, ছাত্রীসহ তার অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে তাদের আইনের আশ্রয় নিতে এবং থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।