Thursday , May 23 2019

টাঙ্গাইলে ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শিক্ষক যে কুকর্ম করলেন…

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মিজানুর রহমান নামে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।মিজানুর রহমান উপজেলার লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল শিক্ষক মিজানুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার অভিভাবককে জানায়। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে গড়িমসি শুরু হলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের এক জরুরি সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বুধবার সকালে পুনরায় ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল হক শিকদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের জরুরি সভায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে মুঠোফোনে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের সিদ্ধান্তের কথা মুঠোফোনে আমাকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় নববধূকে দেখতে এসে বন্ধুদের সহযোগিতায় ধর্ষণ করেছে এক যুবক। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।বুধবার রাতে উপজেলার বেতমোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার বরগুনার আমতলী উপজেলা থেকে কলাপাড়ার চাকামাইয়া ইউনিয়নের বেতমোড়া গ্রামে খালু শ্বশুরের বাড়ি নববধূকে নিয়ে বেড়াতে আসেন তার স্বামী।
সন্ধ্যায় স্থানীয় বখাটে রফিকের নেতৃত্বে রাসেল, খালেক ও জাফর নববধূকে দেখতে খালু শ্বশুরের বাড়িতে যায়। নববধূকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলতে চায় চার বন্ধু। কথা বলার অজুহাতে তাকে তুলে ঘরের পাশের মাঠে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তিন বন্ধুর সহযোগিতায় নববধূকে ধর্ষণ করে রফিক।

পরে আহত অবস্থায় নববধূকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই নববধূর স্বামী বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই নববধূ কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘ওদের হাত-পা ধরে আকুতি মিনতি করার পরও ওরা আমাকে ছাড়েনি!’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নববধূকে ধর্ষণের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নোয়াখালী সুবর্ণচরে পূর্ণিমা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে পেলে পালিয়ে গেলেন ৩ সন্তানদের জনক মসজিদের ঈমাম নুরুল আলম। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সুবর্ণচর উপজেলার ৪নং চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের হাজী দুদা মিয়া জামে ঈমাম, আল আমিন বাজার মাদ্রাসার শিক্ষক,

আন্ডার চর ইউনিয়নের জাকির মিকারের বাড়ীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুর আলম (৩৮) গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতের রাতে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের মো. ফারুকের মেয়ে স্থানীয় সুবর্ণচর গার্লস স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্নিমা আক্তার (১৪) কে প্রেমের ফাঁদে পেলে অজানার উদ্দ্যেশ্য পাড়ি জমায়। সে থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মেয়ের বাবা মো. ফারুক চরজব্বর থানায় এবিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ ব্যাপারে পূর্ণিমার বাবা ফারুকের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে মেয়ে হারানো গেছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, এবং তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন, নুর আলম তার মেয়েকে কোর্টের মাধ্যমে বিয়েও করেছেন।

বিবাহের উপযুক্ত না হতেই কিভাবে বিয়ে করলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মেয়ে দেখতে শুনতে বড় হয়ে গেছে, এর চেয়েও ছোট মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। পরে তিনি ফোন কেটে দেন। এদিকে নুর আলম হুজুরের বর্তমান স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী রাহেলা (ছদ্মনাম) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে সমাজের ইমাম ছিল, সে এমন কাজ করবে আমি ভাবতেও পারিনে, কিছুদিন যাবৎ তার এমন কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে সে আমাকে প্রায় মারধর করে, এবং এসব বিষয়ে প্রায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো, আমার বাবাও একজন আলেম এবং একটি মসজিদের ইমাম। আমি মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলিনি।

বর্তমানে পূর্ণিমার পরিবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি নুরল আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।তিনি আরো বলেন, আমার ৬ বছর বয়সী এক সন্তান মারা গেছে বর্তমানে ৪ বছর বয়সের সিয়াম নামের আরেক সন্তান বড় হচ্ছে এবং ৩ মাসের অনাগত সন্তান আমার পেটে এই অবস্থায় আমি কোথাই যাবো কি করবো বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, মেয়ের বাবা একটি জিডি করেছেন, নুরুল আলমকে আসামি করে অভিযোগ করলে আমি দ্রুত আইনি ব্যাবস্থা নিবো।

এলাকাবাসী জানান, নুরুল আলম এর আগেও একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করেছে, মসজিদের ইমাম ছিলো তাই আমরা ভালো মনে করে কোন প্রতিবাদ করিনি। নুরুল আলমের পৈত্রিক বাড়ী নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডরচর ইউনিয়নে। সে দীর্ঘ বছর ধরে পূর্ব চরজব্বর গ্রামে থাকে এবং সে এলাকায় তাবিজ কবজের ব্যবসা করতো।

নুরুল আমিনের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। চরজব্বর থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মোবাইল ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। লোকেশন পাওয়া গেলে মেয়েটিকে উদ্ধার ও তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সূত্র: মানবজমিন।