Tuesday , May 21 2019

হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়, লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি…

হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে ১৫-২০টি দরিদ্র কৃষকের বসতঘর। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগা্ওঁ ইউনিয়নের কুবজার ও পশ্চিম ভাগ গ্রামে তাণ্ডব চালায় কালবৈশাখী ঝড়। আজ সকালের এই ঝড়ে গাছপালা ভেঙে ক্ষতিগস্ত হয়েছে বিদ্যুতের লাইন।

জানা যায়, রবিবার(২৮ এপ্রিল) ভোর রাতে হঠাৎ করে কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হয়। এলাকার মানুষ কিছু বুঝে উঠার আগেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বেশ কিছু কাঁচা বসতঘরসহ গাছপালা।

কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন কুবজার গ্রামের দরিদ্র কৃষক গফুর মিয়া, মিন্টু মিয়া, সিদ্দীক মিয়া, পশ্চিম ভাগ গ্রামের এমদাদুল হক, এনামুল হক, কুতুব মিয়াসহ আনেকেই।

পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সামছুরনুর আজাদ বলেন, ঝড়ের বিষয়টি এখনো জানি না, খোঁজ নিয়ে উপরের মহলে জানাব। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে এ নিয়ে কথা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করে দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

জুমবাংলানিউজ/এসওআর

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল শনিবার গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় ফণী দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আজ রবিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।রবিবার (২৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন ছয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেদ্রের ৫৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরকে সমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী আরো ঘনীভূত হয়ে ভারতের অন্ধ প্রদেশে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ৬২ কিলোমিটার, যা ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, টানা কয়েক দিনের দাবদাহের পর গত শুক্রবার রাতেই গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আভাস দেওয়া হয়। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, তারপরও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। এদিকে গভীর সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমেই উপকূলের দিকে আসছে। ১৮টি জেলা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ উঠতে পারে ৮০ কিলোমিটারের ওপরে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মুহম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি জানান, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ হিসেবে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসগর এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি শনিবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত হয়ে ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ আছে।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলঘ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

রোববার সকালে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো ঘণীভূত অবস্থায় উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র-তামিল নাড়ু উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এতে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগে দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট ও পটুয়াখালী অঞ্চলসহ সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।