Tuesday , May 21 2019

এইমাত্র পাওয়াঃ শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা বোরকা, নিকাব নিষিদ্ধ করল, নেপথ্যে যে কারন…

ইস্টার সানডেতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করল শ্রীলঙ্কা সরকার। বোরকার পাশাপাশি নিকাবসহ মুখ ঢেকে রাখে এমন সব পোশাকের ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা এনেছে দেশটি।

এক জরুরি আইনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা। শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলা ২৫৩ জন নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর রবিবার এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনো পোশাক যা মুখ শনাক্তকরণে বাধার সৃষ্টি করে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করা হবে এবং ইসলাম ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে শ্রীলঙ্কার সরকার। এছাড়া হামলার এক সপ্তাহ পরও নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাথলিক গির্জা বন্ধ রেখেছে সরকার।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের প্রার্থনা অনুষ্ঠান চলাকালে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে চালানো বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হন। রাজধানী কলম্বো, অদূরের নেগম্বো ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বাত্তিকোলার হামলায় আহত হন অন্তত ৫০০ মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে প্রার্থনার সময় ৭টি স্থানে একইসঙ্গে সিরিজ বোমা হামলার পর আতঙ্কে রয়েছে দেশটির উচ্চমহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। আর আকস্মিক ওই হামলার পর ঘটনার দায়ীদের বাহির করতে মরিয়া সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। সেই হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্থানার তথ্য পেয়ে রাতের শেষদিকে অভিযান চালাতে গিয়ে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের ৪ সক্রিয় সদস্যসহ নিহত হয়েছে ১৫ জন বলে জানায় দেশটির গণমাধ্যমের।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) শেষ রাতের দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ১৫ জন। পাল্টাপাল্টি ওই হামলার সময় ৪ জঙ্গি আত্মঘাতী ঘটিয়েছে বলে দাবি সেনা ও পুলিশ যৌ

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় পুলিশ বলেন, রাতের শেষের দিকে কয়েকটি বাড়ি মধ্যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য অবস্থান করছে এমন তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে সেখানে লক্ষ্য করে অভিযান চালালে পাল্টা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ঘটনাস্থানেই নিহত হন সক্রিয় ৪ জঙ্গিসহ ১৫ জন এর মধ্যে পুরুষ ৬ জন, নারী ৩ জনসহ ৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পাল্টাপাল্টি হামলায় চার সক্রিয় জঙ্গি আত্মঘাতী ঘটিয়েছেন বলে দাবি করে যৌথ বাহিনী। তবে ওই গোলাগুলির সময় আহত একজন নারী ও তিনজন শিশুসহ ৪ জনকে স্থানীয় এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশটির এক সংবামাধ্যমে জানা যায়, আমপারা শহরের কালমুনাই এলাকায় বন্দুক যুদ্ধের সময় চারজন সন্দেহভাজন ৪ জঙ্গি আত্মঘাতী ঘটিয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরুষ, মহিলা ও শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

পুলিশের এসপি রুয়ান গুনাসেকারা বলেন, আমরা ইস্টার সানডে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযান চালাতে গেলে আমাদের টিমের প্রতি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় টিমের পক্ষ থেকে পাল্টা গুলি চালালে স্থানেই চারজন জঙ্গি নিহত হয়।

এদিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের শুক্রবার শেষ রাতের দিকে চালানো যৌথ অভিযান সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন নিন্তাভুর এরিয়া কমন্ডার। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, জঙ্গিদের অবস্থান টের পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালায়। তবে দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি তাদের এ অভিযানে ইস্টার সানডে হামলার অন্যতম ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহত ওই জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্টেট এর সক্রিয় সদস্য ছিল।

হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ভারী অস্ত্র, বুলেট প্রুভ জ্যাকেট, হ্যান্ড গ্রেনেড, আইএসের পতাকা, সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম এবং সুইসাইডাল যন্ত্রসহ অনেক কিছু উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে একই সময়ে ৭ টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৫৯ জন বলে দাবি করেন লঙ্কান গণমাধ্যম।

ভয়াবহ ওই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক। ওই সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

বিডি২৪লাইভ/এএস/এসএ