Tuesday , May 21 2019

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা…

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপি থেকে জিতেছেন ছয়জন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান ২৫ এপ্রিল গত বৃহস্পতিবার শপথ নেন।গত সোমবার শপথ নিয়েছেন আরো চার বিজয়ী সাংসদ। ফলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি পাঁচজনই সাংসদ হিসেবে শপথ নিলেন।

তিনি কবে শপথ নেবেন এমন প্রশ্নে ফখরুল জানান, সময় হলেই জানতে পারবেন। আজ মঙ্গলবার মির্জা ফখরুল বলেন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আমি নাকি সময় চেয়ে আবেদন করেছি। আসলে আমি কোনো চিঠি দেইনি। সময়ও চাইনি। এটাও আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা আমাদের কৌশল।

তিনি বলেন, গতকাল থেকে রাজনীতি গরম হয়ে গেছে। এটা নিঃসন্দেহে চমকের মতো সংবাদ। ইউটার্ন মনে করতে পারেন। আমাদের সিদ্ধান্ত অন্যরকম ছিল। ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি প্রহসন হয়েছে। খুব খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না। আমাদের সুযোগ ন্যূনতম কাজে লাগাতে চাই। সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছু হয়। সময় ঠিক করে দেবে আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল না ঠিক। এদিকে বিএনপি শপথ গ্রহণের পরই শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা।

সংরক্ষিত নারী আসনে একটি আসন পাবে বিএনপি। সে আসছে কে আসছেন এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির যেসব নেত্রীর নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসছেন তারা হলেন, নারী এমপি আফরোজা আব্বাস, নিপুণ রায় চৌধুরী, শামা ওবায়েদ ও রুমিন ফারহানা।

বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেওয়ায় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের বৈঠকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে ৯০ দিনের মধ্যে মির্জা ফখরুল শপথ নিতে অসমর্থ হওয়ায় তার আসনটি শূন্য হয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন শুনানির দিন আগামীকাল মঙ্গলবার ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিগত সময়ে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার না পেলেও এবার পাবেন বলে আশা করছি। জানা গেছে, জেল থেকে মুক্তি পেতে হলে জিয়া চ্যারিটেবল মামলাসহ আরও তিনটি মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে হবে।

এর আগে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে পর্দার অন্তরালে সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। যেহেতু খালেদা জিয়ার মনোভাবে বোঝা গেছে তিনি প্যারোলে রাজি নন, সে কারণে একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ছয় বিজয়ীর শপথ নেওয়ার মাধ্যমে এ সমঝোতা হতে পারে। এই শপথের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের এই খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা কয়েক দিন আগে বলেন, কোনো খবর যখন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন ধরে নিতে হবে কোথাও না কোথাও এর ভিত্তি আছে। এ উদ্যোগ যে দলীয়ভাবেই হতে হবে এমনটা নয়; দলের বাইরেও হতে পারে। তবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই হয়ে যায়। খালেদা জিয়ার মুক্তির ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে।

ওই নেতা বলেন, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল-এ দুটি মামলা বাদে অন্য সব মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিনে আছেন। সরকারের দিক থেকে বাধা সৃষ্টি না করলে জামিনযোগ্য ওই দুই মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে যেকোনো সময় মুক্ত হবেন।
বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতি পেলেই সংসদে যাবে বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য। কারাবন্দী বেগম জিয়ার মতামত নিতে খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাচ্ছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন বিএনপি নেতারা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই একদিনের মধ্যেই তাদের বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগার থেকে বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়।

সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে তিনি অবস্থান করছেন। সরকার এবং বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সমঝোতার অংশ হিসেবেই বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধুতে আনা হয়েছে। বেগম জিয়ার প্যারোলের শর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া এবং সংসদে যোগ দেওয়া। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি থেকে যারা শপথ নেননি, তাদের আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে হবে, না হলে তাদের আসন শূন্য ঘোষিত হবে।

ইতিমধ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুজন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান শপথ নিয়েছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আজ বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘আমি আশা করছি খুব শিগগির জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাকিরাও শপথ নেবে। এই প্রক্রিয়া চলছে।’

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন, এই শর্তেই বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। বেগম জিয়ার প্যারোলের ব্যাপারে যে পাঁচ শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো-

১. বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে যোগদান করবেন।

২. তারেক জিয়া দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাড়াবেন।

৩. বিএনপি আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবে।

৪. প্যারোলে মুক্ত হয়ে বেগম জিয়া কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না।

৫. বেগম জিয়া বিদেশে যাবেন না।

জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সঙ্গে সমঝোতার কাজটি করছেন। তার অনুরোধেই সমঝোতা আলোচনাকে এগিয়ে নিতে, বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুতে আসতে রাজী হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির বেশ ক’জন শীর্ষ নেতাই প্যারোলে সমঝোতার শর্তগুলো সম্পর্কে জানেন। তবে, এদের অনেকেই এই শর্ত শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া মানবেন না বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, দ্বিতীয় শর্তেই আটকে যাবে সমঝোতা। কারণ, তারেক জিয়াকে বিএনপি থেকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা এখন বেগম জিয়ারও নেই। তবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এনিয়ে বেগম জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের কয়েক দফা কথা হয়েছে। বেগম জিয়াও এখন তারেক জিয়াকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরাতে চান। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে যে সিনিয়র নেতারা যাবেন, তারাও আপাতত: তারেক জিয়া মুক্ত বিএনপি চান। কিন্তু এসব সমঝোতায় বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সমস্যা হলো তিনি শেষ পর্যন্ত হঠাৎ করে মত বদলে অনড় হয়ে যান।সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার।