Sunday , August 25 2019

জেনে নিন পেঁপে পাতার নির্যাসের স্বাস্থ্য উপকারিতা

পেঁপে ফলটি তার নানবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য সুপরিচিত। কিন্তু পেঁপে পাতার কথা খুব কমই আ’লোচিত হয়েছে। পেঁপে পাতার নানাবিধ ভেষজ ও ঔষধি গুণাবলী আছে। এ কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের সময় পেঁপে পাতার চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। পেঁপে পাতা শুধু ডেঙ্গুর বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করতেই সাহায্য করেনা বরং এর আছে আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। পেঁপে পাতা বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো স’ম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

১। র’ক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
অনেক অ্যানিমেল স্টাডিজ নিশ্চিত করেছে যে, পেঁপে পাতার রস প্লেটলেট ও লোহিত র’ক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং র’ক্ত সংবহনের উন্নতি ঘটায়। গবেষণায় এটাও নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, পেঁপে পাতার রস মানুষের ক্ষেত্রেও সমান প্রভাব ফেলে। ডেঙ্গুজ্বর নিরাময়ে পেঁপে পাতার নির্যাস ব্যবহার করার এটি একটি কারণ যেখানে র’ক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা কমতে থাকে।

২। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে
বিশ্বা’স করা হয় যে, পেঁপে পাতার রসে টিউমা’ররোধী উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জির সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাথনোফার্মাকোলজি জার্নালের গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, পেঁপে পাতার রসে নির্দিষ্ট কিছু এনজাইম থাকে যা ব্রেস্ট ক্যান্সার, সারভিক্স ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার ও প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করতে পারে। তাই কোন কোন দেশে পেঁপে পাতার রস ক্যামোথেরাপির একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করার পরাম’র্শ দেয়া হয়।

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়
পেঁপে পাতার রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে সাহায্য করে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- কিডনি, লিভার এবং পাকস্থলীর প্রাচীরের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

৪। কোষ্ঠকাঠিন্যের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করতে সাহায্য করে
কাঁচা ও পাকা উভ’য় ধরণের পেঁপেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের বর্জ্য উপাদানের নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

৫। প্রোস্টেটের সমস্যা নিরাময় করতে পারে
পেঁপে পাতার রসে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান থাকে। এছাড়াও এটি প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের সূত্রপাত রোধে সাহায্য করে।

পেঁপে পাতায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান থাকে যেমন- ভিটামিন বি যা জীবনীশক্তি ও মেজাজের উন্নতি ঘটায়, ভিটামিন এ ও সি যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা শক্ত হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়, ভিটামিন ই যা কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি, ফ্লাভনয়েড যা ক্যান্সারকে দূরে রাখে, ট্যানিন যা ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপ্ত করে এবং বিটাক্যারোটিন যা চোখের জন্য ভালো।

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন