সৌদি ফেরত নারীকর্মীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা নারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গত ৩ জুন রাতে ফিরেছেন ২৯ নারী। এ পর্যন্ত মোট কত নারী এ বছর দেশে ফিরলেন,তার সঠিক তথ্য নেই সরকারের কাছে। এনজিও ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত তিন বছরে সৌদি ফেরত নারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে গত ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় তিনশ নারী ফেরত এসেছেন।

গৃহকর্মী হিসেবে নারীদের সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য দুই দেশের চুক্তি রয়েছে। যাওয়ার আগে সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আছে। কিন্তু নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরত আসা নারীদের নিয়ে সরকারের কোনো কার্যক্রম নেই।

গত ৩ জুন সৌদি ফেরত আসা নারীরা জানান, চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু গৃহকর্তাদের নির্যাতনে দুই-তিন মাসেই সৌদি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। নিজের জীবনের আর্থিক উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব যাওয়া এসব নারীরা আজ ফেরত এসেছেন পলিথিনে ভরা কয়েকটি ছেঁড়া কাপড় নিয়ে।

আরও খবর : রাজনৈতিক আশ্রয়ের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

তাঁরা জানান, আরো অনেক বাংলাদেশি নারী রয়েছে সৌদি আরবে। যারা বিভিন্ন কারণে দেশে ফেরত আসতে পারছেন না। এসব নির্যাতিত নারীদের দ্রুত দেশে ফেরত নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তাঁরা। এই নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, রিয়াদের জেলে থাকা আরো প্রায় ৫৯ নারী দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

গত ৩ জুন ফেরত আসা বেশিরভাগ নারীরা তাঁদের ফেরত আসার খরব জানাতে পারেননি পরিবারের কাছে। ফলে বিমানবন্দরে ২৯ নারীর কোনো স্বজনের উপস্থিতি ছিলো না। অনেকের বাড়িতে যাওয়ার টাকা নেই, আবার অনেকের হাতে মুঠোফোন নেই বলে কোনো স্বজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

ফেরত আসা আফিয়া খাতুন (ছদ্দনাম) নামে এক নির্যাতিত নারী জানান, সৌদি আরবে তিনি যে বাড়ীতে কাজ করতেন সেখানে তাঁকে দিনে কমপক্ষে ১৮-১৯ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। ঠিক মতো খাবার পেতো না, বেতন চাইলে মারধর করতো, বাথরুমে আটকে রাখতো, বাড়িতে কারো সংগে যোগাযোগ করতে দিতো।

এমনকি যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি শিকার না করলেও আকারে-ইংগিতে সে ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেওে জানালেন তিনি। তিনি বলেন, কোন এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি গিয়েছিলেন তা বলতে পারবেন না। তবে দালালের নাম জানেন তিনি।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে যে নারীদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তাঁদের ব্র্যাকের একটি সেন্টারে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আর যাঁদের যাওয়ার জন্য হাতে টাকা নেই, সেই নারীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে কেউ ফিরলে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কয়েক দিন বেশি সময় আশ্রয় লাগলে অভিবাসন নিয়ে কর্মরত ওকাবের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা নারীদের জন্য জরুরি সহায়তা, সমাজে পুনর্বাসন এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার সরকারের।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকার বর্তমানে ফেরত আসা নারীদের জরুরি সহায়তাসহ দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতেই ফেরত আসা নির্যাতিত নারীদের দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার ব্যবস্থা নিবে সরকার।