ভালোবাসা দিবসের আগে মদের আসরে হাত-পা বেঁধে বান্ধবীকে যৌন নির্যাতন, অত:পর

বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে জমায়েতে হাজির হয়েছিল এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু সেখানে যাওয়ার মাশুল যে এরকম হতে পারে তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেনি সে। অভিযোগ, বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীর উপর যৌন নির্যাতন চালায় তারই বন্ধুরা। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনা ভারতের সোনারপুরের রথতলার। জানা যাচ্ছে, মেয়েটির কোনও এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সকলে একসঙ্গে বসে হই-হুল্লোড় করার পরিকল্পনা ছিল। উৎপল নামে এক বন্ধুর বাড়িতে বসে আসর। সেখানে যথেচ্ছ মদ্যপান করে তরুণরা। ওই তরুণীকেও জোর করে মদ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। মদের নেশায় বেহুঁশ করে হাত-পা বেঁধে ওই তরুণীর উপর চলে যৌন নির্যাতন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার বিকেলে উৎপলের বাড়ি থেকেই তরুণীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। পুরোটাই করা হয়েছে পরিকল্পনামাফিক। প্রথমে জন্মদিন সেলিব্রেশনের নামে এক বন্ধুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর জোর করে মদ খাইয়ে বেঁহুশ করে চালানো হয়েছে অত্যাচার। মেয়েটির হাতে ও পায়ে দড়ির দাগও দেখা গিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের আশঙ্কা, যৌন নির্যাতনের পর মেয়েকে খুন করে ফেলতে পারত মদ্যপ বন্ধুরা। পুরো ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

এদিকে উৎপলের পরিবারের দাবি, এরকম কোনও ঘটনা নয়। বন্ধুরা মিলে আনন্দ করতেই একজোট হয়েছিল সবাই। ওখানেই মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। তাঁদের কাছেও খবর যায় যে, মেয়েটি বমি করছে। তারপরই বাড়ির বড়রা গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। মেয়েটি স্বেচ্ছায় বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিল, নাকি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা নিয়েও ধন্ধ রয়েছে। এদিকে দুই পরিবারের দাবি ও পালটা দাবিকে কেন্দ্র করে খানিকটা ধোঁয়াশাও দেখা দিয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।