চোখ ভালো রাখতে

কথায়ই আছে সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। কিন্তু সুন্দর চোখের কদরও কম নয়। ‘কাজল নয়না হরিণী’ থেকে ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ সংগীতে চোখের জয়জয়কার। চোখই মনের আয়না। কিন্তু আয়নার মতো ঝকঝকে রাখতে চোখেরও নিয়মিত পরিচর্যা দরকার। সামান্য ঘরোয়া কিছু টোটকা আর নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করালেই অমূল্য চোখের জ্যোতি ও সৌন্দর্য বাড়তে পারে অনায়াসেই।
সারা দিনের কাজের পরে শরীর যেমন অবসন্ন হয়, চোখ দুটিও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চোখ ক্লান্ত হলে নানা সমস্যা হতে পারে। মাথার যন্ত্রণাও শুরু হয়। চোখ ভালো রাখার কিছু ব্যায়াম রয়েছে। সেগুলো চোখের চিকিৎসকই জানাতে পারেন। সঙ্গে প্রয়োজন নিয়মিত সুষম আহার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন।

এখন টিভিতে রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা চলছে। কিন্তু পরদিন সকালে আবার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে হাজিরা দেয়াটাও অবশ্য কর্তব্য। কাউকে আবার অফিস ফেরত বাজার সেরে বাড়ি ফিরে অফিসেরই কাজ করতে হয়। কেউ ইন্টারনেট-চ্যাটে ব্যস্ত। কারো চোখ টিভিতে। রাতে আবার বিশ্বকাপ। এই রুটিনে চোখ বিশ্রাম পায় না। চোখের আরামও যে প্রয়োজন, সেটা অনেকেই ভুলে যান।

কেমন করে চোখের যত্ন নিতে হবে? মুখ মুছতে আলাদা নরম তোয়ালে ব্যবহার করা ভালো। তাতে চোখে সংক্রমণের হার অনেকটা এড়ানো যায়। যারা চশমা ও সানগ্লাস নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাদের সেসব পরিষ্কার রাখতে হবে। চশমার অস্বচ্ছ কাচ কিন্তু দৃষ্টিশক্তির সমস্যা তৈরি করে। যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তারা সবসময় জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে লেন্স পরবেন। খোলার সময়ও একই নিয়ম। লেন্সে যাতে ধুলোবালি না ঢোকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসেন। কিন্তু মনে রাখবেন, বৃষ্টির জলে বায়ুমণ্ডল থেকে অসংখ্য জীবাণু ও দূষিত উপাদান ঢুকে পড়ে। তাই বৃষ্টির জল চোখে না লাগানোই ভালো। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার জলে হালকা ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা দরকার।

খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে ছোট মাছ চোখের পক্ষে খুব ভালো। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন একটা সেদ্ধ ডিম থাকলে ভালো। প্রতিদিন তাজা শাক-আনাজ ও মৌসুমি ফল খেলে চোখ ভালো থাকে। এখনকার বেশিরভাগ কাজ-কর্ম কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনে সারেন অনেকে। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের অস্বস্তি হয়, যা পরবর্তীকালে সমস্যা করতে পারে। টিভি দেখার সময় একটু দূর থেকে দেখাই ভালো। আনন্দবাজার।