জেদ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন

ভীষ্মের ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। বিখ্যাত, সফল মানুষদের সবার থাকে। উচ্চাকাক্সক্ষা থাকবে আর জেদ থাকবে না, তা তো হয় না। কাজেই পৃথিবী উল্টে গেলেও তারা যা করার করে ছাড়েন। অন্যদিকে, দুর্যোধনের ছিল গোঁয়ার্তুমি। পাণ্ডবদের ধ্বংস করার তার দুর্মর জেদ চলে গিয়েছিল বাতিক বা অবসেশনের পর্যায়ে। নানা ঘটনায় তা বাড়তে বাড়তে এমন হয় যে তাদের শেষ না করা পর্যন্ত শান্তি নেই, যাকে বলে কমপালশন। তার ফলেই অত বড় যুদ্ধ!

ছোটখাটো পরিসরে আমরাও মাঝে মাঝে দুর্যোধন হয়ে যাই? হয়তো একটা জিনিস, না পেলে এমন কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু হঠাৎ জেগে গেল জেদ, পেতেই হবে। পাওয়ার পথে যত বাধা আসছে তত বাড়ছে জেদ। চূড়ান্ত অশান্তি মনে?
সমাধান: ১. চূড়ান্ত জেদ কমানো মুখের কথা নয়। মারাত্মক ক্ষতি হলে অনেক সময় চোখ খোলে। অকারণে জেদ করে কোনো লাভ হচ্ছে না এটা বুঝতে পারলে পরিবর্তন আসে। তবে তার আগে বহু কিছুই হারিয়ে যায় জীবন থেকে।
২. কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি বা সিবিটি করে সঠিক জীবনবোধ জাগানো যায়। তার হাত ধরে অনেক অগুনের পাশাপাশি জেদও কষে। কিন্তু এ ধরনের মানুষ সচরাচর থেরাপির জন্য আসেন না। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা কাজের জায়গায় ক্রমাগত ক্ষতি হতে থাকলে, তার কারণ খুঁজতে আসেন অনেক সময়। কখনো বাড়ির লোক ধরে বেঁধে আনেন।

৩. সিবিটিতে অতীতের ঘটনা তুলে আলোচনা করে দেখানো হয় যে কোন পরিস্থিতিতে কী আবেগ জেগেছিল বলে তিনি জেদ ধরে কী কী করেছেন এবং তাতে কী ক্ষতি হয়েছে। ধরুন কিছু একটা পাওয়ার লোভে অসম লড়াইয়ে নেমেছেন। ইচ্ছে এত তীব্র যে, অন্য কাজ ভুলে এর পেছনে পড়েছেন। ফলে আসল কাজের ক্ষতি হয়েছে। চাহিদা না মেটায় হয়তো ঝগড়া করেছেন। সম্মান নষ্ট হয়েছে, নষ্ট হয়েছে সম্পর্ক, অশান্তি পেয়েছেন। তারচেয়ে জেদটা যদি না ধরতেন আরো কি বেশি ক্ষতি হয়ে যেত?

জেদ ঠেকাতে: ৩-৫ বছর পর্যন্ত বাচ্চারা একটু জেদ করে। এতে চিন্তার কিছু নেই। তারপরেও যদি করতে থাকে, সাবধান হতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কখনো তার জেদের কাছে হার স্বীকার করবেন না। তবে সেটা যেন আবার আপনার জেদের বহিঃপ্রকাশ না হয়ে যায়। তাতে উল্টো কাজ হবে। আনন্দবাজার।