ছোটগল্প | জোছনা বিলাপ | হানিফ মোল্লা

দোহাজারী লাইনের ট্রেনটা এইমাত্র হুইসেল দিয়ে থামলো ঝাউতলা স্টেশনে। ট্রেন বলতে সেই পাকিস্তান আমলের সেকেন্ড ক্লাস বগি। এত বছরেও সংস্কার যে হয়নি সেটা বুঝতে একটুও কষ্ট হয় না। স্টেশন বলতে যা বোঝায়, সেই অর্থে এখানে কিছুই নেই। একটা মাত্র প্লাটফর্ম, তাও মরিচা ধরা, এমন অবস্থা যে আর কিছুদিন বাদেই বস্তির লোকেরা সেগুলো খুলে নিয়ে বেচে দিয়ে আসবে। যত্ন বা দেখভাল করার কেউ যে নেই, সেটা স্পষ্ট। বাংলাদেশে সরকারি সম্পত্তি ব্যাপারটাই এমন। ‘আল্লার মালের’ তাও একজন জিম্মাদার আছে- স্বয়ং আল্লাহ, কিন্তু এই দেশে রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনও মালিক নেই আসলে।

স্টেশনের কাছাকাছি বস্তি থাকবেই। এটা শুধু চাটগাঁ শহরেই নয়, গোটা ভারতবর্ষের সাধারণ ব্যাপার। গ্রামীণ অর্থনীতি আর সামন্তীয় সমাজ কাঠামোর ভাঙনের ফলে কোটি কোটি উদ্বাস্তু মানুষের হাহাকারের অগণিত গল্প আছে। রাজনীতিবিদেরা ভোটের সময় তাদের বাপ-মা ডাকার মতো অবস্থা হলেও ভোটের পরে তারাই কাগজে-কলমে এদের বাপ-মা বনে যান। কিন্তু এসব বস্তিবাসী অন্যসব সাধারণ জনগণের মতোই চিরজীবন বেওয়ারিশ থেকে যান। এসব বেওয়ারিশদের মাঝে আরো বেওয়ারিশ অনেকেই থাকে। আজ আপনাদেরকে তাদের একজনের কথাই বলবো।

ট্রেনটা যখন আবার হুইসেল বাজিয়ে চলে যায় তখনই বস্তির ভেতর থেকে চিৎকার আর মারধরের আলামত ভেসে আসে। বস্তি মানে বেড়া আর শত ফুটো হয়ে যাওয়া টিন দিয়ে বানানো ঘর। কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায় বা বর্ষার সময় প্রায় ভেঙে পড়ে এমন ঘর। সেগুলোর কোনও একটার ভেতরে পান্না তার মেয়েকে খুব মার ধর করছে। আর খুব কাঁচা কাঁচা গালি দিচ্ছে। সারাদিন অভুক্ত এগারো বছরের মেয়েটি মায়ের ভীষণ মার খেয়ে তাদের ঝুপড়ির এক কোণে শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। মারার কারণ টাকা-পয়সা। পান্না গার্মেন্টস কর্মী। খুব ভোরে উঠেই চলে যায় কাজে। মেয়েকে সে ভিক্ষা করতে বলে। কিন্তু মেয়ে ভিক্ষা করতে চায় না। তার নাকি শরম করে। ‘গরীবের আবার শরম কিয়ের?’, পান্নার ভাবনাটা এমনই। কিন্তু পান্না তার পাশের ঘরের রইশ্যার মায়ের সাথে কথা বলে রেখেছে অনেকদিন আগেই। ভিক্ষা করতে যাবার সময় জোছনাকেও সাথে নিয়ে যাবে। সারাদিন বসে বসে খেয়ে লাভ কী? রইশ্যার মায়ের সাথে ভিক্ষাতে গেলে অন্তত এক দেড়শ টাকা রোজগার হয়। এতে করে তার নিজের পেটের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারে। পাশের দুই ঘর পরের বারো বছর বয়সী লিমা প্রতিদিন তিন চারশ টাকা কামায়। এইসব দেখে পান্না ভাবে, জোছনা ঘরে বসে বসে ভাত না গিলে নিজের ভাতের ব্যবস্থা নিজেই করে নিতে পারে।

বছর পাঁচেক আগেও এসব ভাবনা ছিল না তার। জালালের হাত ধরে সে গ্রাম থেকে এই শহরে এসেছে। জালাল তাকে সুন্দর সংসার আর সাজানো জীবনের কেচ্ছা শুনিয়ে বিয়ে করেছিলো। সেই সময় তার রূপ-যৌবন ছিলো বেদের মেয়ে জোছনার মতোই। তখন তারা থাকতো অন্য জায়গায়। থাকার ব্যবস্থা এত খারাপ ছিলো না। জালাল নানান রকম কাজ করতো। খাতুনগঞ্জের কুলি থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রির হেল্পার বা কাজ না পেলে রিকশাও চালাতো। তাতে জালাল আর পান্নার সংসার ভালোই চলে যাচ্ছিলো। সারাদিন খাটা-খাটনি করে রাতের বেলা পান্নাকে যখন জালাল আদর করতো, তখন সে এই জীবনকে আর আল্লাহকে মনে মনে হাজার কোটি ধন্যবাদ দিতো।

আদর করে পান্নাকে ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ডাকতো জালাল। মাসে মাসে তারা একসাথে সিনেমাও দেখতে যেতো। জালালের মারামারির সিনেমা পছন্দ ছিলো, কিন্তু পান্নার প্রেমের কাহিনী ভালো লাগতো। একদিন রাতে আদর করা শেষে জালাল পান্নাকে বলে, ‘ও বেদের মেয়ে জোছনা, তুমারে কাইল সোহাগের সিনেমা দেখামু’। পান্না ভাবে কী না কী বলে জালাল। সে খালি খিলখিল করে হাসে।

পরদিন সত্যি সত্যি পান্নাকে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যায় জালাল। কিন্তু প্রথমে ইংরেজি ভাষায় চাকমা চেহারার মানুষের খুব মারামারির একটা সিনেমা চলে। পান্নার ভালো লাগে না। সে জালালকে বলে, ‘চলেন, আর দেখুম না, ভাল্লাগে না’। জালাল বলে, ‘আরে ধইরজো ধরো। একটু পরেই সোহাগের সিন আইবো। দেখবা ভাল্লাগবো’। এর পর জালালের কথা মতো সেই ‘সোহাগের সিন’ শুরু হলো। সাগর পাড়ে এক ‘বিদেশি ব্যাডা’ আরেক ‘বিদেশি ন্যাংটা বেডির’ সারা গায়ে তেল মাখলো। তারপর জালাল যেভাবে রাতের বেলা পান্নাকে আদর করে, সেভাবে আদর করা শুরু করলো। পান্না লজ্জায় শরমে জালালের হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে সিনেমা হল থেকে বের হয়ে গেলো। সেটাই তাদের একসাথে দেখা শেষ সিনেমা।

কিছুদিন পর পান্না ‘পোয়াতি’ হয়ে গেলো। ঘটনা এইবার মোড় নিলো অন্য দিকে। পেটে বাচ্চা আসার পর থেকে জালাল আর আগের মতো বউকে আদর করতে পারে না। পান্নার খালি বমি বমি লাগে। জালালকে আর আগের মতো কাছে ঘেঁষতে দেয় না, তার মন চায় না। ধীরে ধীরে পান্নার শরীর ভারী হতে থাকে। আর জালালের মনও কেমন অচেনা অচেনা লাগে। তাদের সামনের ঘরে থাকতো রুজিনা নামের এক মেয়ে। সেই মেয়ের সাথে জালালের আগেও কয়েকবার চোখাচোখি হয়েছে। কিন্তু রুজিনা যে এত সুন্দর দেখতে, এটা পান্না পোয়াতি হবার আগে জালাল টের পায়নি। রুজিনার সম্মতিতেই তাদের ভাবের আদান-প্রদান বেড়ে যায়। যেদিন পান্নার প্রসব বেদনা উঠি উঠি করে, সেদিন জালালের হাত ধরে শুয়ে থাকা পান্না অনেক কাকুতি মিনতি করে। বাচ্চা দিতে গিয়ে যদি সে মারা যায়, জালাল যেন আবার বিয়ে না করে। সেইসব শপথও জালাল থেকে আদায় করে নেয়।

যেদিন জোছনার জন্ম হয় সেদিনই জালাল ঘরে ছিলো না। না, কাজের প্রয়োজনে নয়, রুজিনাকে নিয়ে সে ‘বুকভরা ভালোবাসা’ সিনেমার নাইট শো দেখতে গেছে। প্রসব বেদনায় আল্লাহর পরেই জালালের নাম জপতে থাকা পান্না আশেপাশের অভিজ্ঞ মেয়ে মানুষের সহায়তায় ফুটফুটে পুতুলের মতো এক কন্যার জন্ম দিলো। জালাল তখন রাস্তার মোড়ে রুজিনাকে নামিয়ে দিয়ে নিজের ঘরে এসে মহাখুশী। তাকে দেখলে বুঝার উপায় নেই যে, তার বউ কত কষ্ট করে বাচ্চা প্রসব করলো। ভাবখানা এমন, যেন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার।

কানা ছেলের নাম ‘পদ্মলোচন’ হলে দোষ থাকতে পারে। কিন্তু এই ফুটফুটে বাচ্চার নাম ‘জোছনা’ রেখেছে তার বাপ, দুইটা ফার্মের মুরগী জবাই দিয়ে। কিন্তু দিনে দিনে পান্না আর জালালের দূরত্ব বাড়তে বাড়তে বহুদূর। জোছনার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন তার বাবা কথা নেই, বারতা নেই, হঠাৎ গায়েব। পান্না একে-তাকে জিজ্ঞেস করে, পরিচিত রিকশার ড্রাইভারদের ধরে। কেউ জালালের খবর দিতে পারে না। জালাল একা হারিয়ে গেলে পান্নার এতটা খারাপ লাগতো না। যখন সে জানতে পারে, এই বস্তিরই মেয়ে রুজিনাও সেই একইদিন থেকে লাপাত্তা, ছোট এই এক টুকরা মেয়েকে নিয়ে পান্না দিন সাতেক বাদেই দিশেহারা হয়ে পড়ে।

দুইটা পেটের জোগাড়যন্ত কম কথা না। একই বস্তির এক মেয়ে তাকে গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে সেই যাত্রা ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দেবার হাত থেকে বাঁচায়। বছর খানেক যেতে না যেতেই পান্না দুই তিন পুরুষের হাত ঘুরেছে। সবাই একটা নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখালেও বিছানায় নিয়ে যাবার পর সবারই সেই একই ধানাই-পানাই। এরা সবাই তার গার্মেন্টসের কর্মী। শুধু বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা জীবন পান্নার এখন। বাচ্চা বা অন্য যেকোনও ব্যক্তি, কাউকে আর ভালোবাসার জন্য তার মনের মাঝে জায়গা নেই।

প্রতিদিন ঘরে এসেই জোছনাকে মারধর করে সে। সারাদিনের কাজের ক্লান্তি আর রোজ রোজ ঠকে যাওয়া জীবনের জন্য। আগেকার সুখের দিন হারানোর জন্য নিজের এই মেয়েকেই সে মনে মনে দায়ী করে। তার মনের চিরাচরিত কুসংস্কার তাকে জানান দেয়, জোছনার জন্মের পরেই তার ভাগ্য খারাপ হয়েছে। নিজের জীবনের প্রতি ঘৃণা আর মেয়ের প্রতি প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের কারণেই সে মেয়েকে ভিক্ষার মতো কাজে ঠেলে দেয়।

সেই জোছনা এখন পেশাদার পতিতা। এই এগারো বছর বয়েসেই সে শহরের দেওয়ানহাট ব্রিজের গোড়ায়, কখনো আগ্রাবাদ মোড়ে, কখনো জিইসি’র মোড়ে সন্ধ্যায় কিংবা গভীর রাতে দাঁড়িয়ে থাকে খদ্দেরের আশায়। এই পথে আসার ঘটনাটা অন্যরকম। যেই বুড়ির সাথে তার মা তাকে ভিক্ষা করতে পাঠাতো, সেই বুড়ি একদিন তাকে হাতে একশ টাকার একটা নোট দিয়ে এক মাঝবয়সী লোকের ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। সারাদিন বুড়ির সাথে ঘুরলে যেখানে পঞ্চাশ টাকা পাওয়া কষ্টের ছিল, সেখানে পাঁচ মিনিটের জন্য সে একশ টাকা পায়। সেই দিনের নিকষ বর্ণনা নাহয় না-ই দিলাম। জোছনার খুব কষ্ট হয়। তবে এরপর থেকেই জোছনা এখন বুঝে গেছে, কীভাবে টাকা কামাতে হয়। আর এই লাইনে সে একা না। তার সাথে আছে আরো অনেক মেয়ে। একেকজনের গল্পও একেক রকম।

জোছনার কাস্টমার বেশিরভাগ রিকশা ড্রাইভার, টেম্পু বা বাস ড্রাইভার বা হেল্পার। এরা রাস্তার মোড় থেকে তাকে একেক দিন একেকজন নানান জায়গায় নিয়ে যায়। সারারাত তার শরীর নিয়ে খেলে। এদের মাঝে কেউ কেউ আছেন একটু ভালো মনের। একবার দুইবার কাজ করেই ঘুমিয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার রাতের খাবার খাওয়ায়। সুখ-দুঃখের কথা জিজ্ঞেস করে। আবার কাউকে কুত্তার মতো লাগে জোছনার। ঘরে নিয়ে গিয়েই বিছানায় ফেলে একেকটা পশুর মতো হয়ে যায়। কেউ কেউ তার কচি মুখে বা বুকে কামড় দিয়ে দাঁতের দাগ আর নখের দাগও বসিয়ে দেয়। সে খুব একটা প্রতিবাদ করতে পারে না। বিনিময়ে যে টাকা পাবে, তাই।

কয়েকবার এমনও হয়েছে একজন ঠিক করে নিয়ে গেছে। ঘরে ঢোকার পর দেখা গেলো, তিন চারজন মাঝবয়সী পুরুষ তাকে নিয়ে যা খুশি তাই করেছে। এরপর শরীরের ব্যাথায় মাঝে কয়েকদিন সে তার নিয়মিত কাজে যেতে পারে না। তার কাছে বেঁচে থাকা মানে শরীর বিলিয়ে দিয়ে রোজগার করা।

একদিন শহরের উঁচু দালানের ওপর দিয়ে সন্ধ্যায় গোল হলুদ একটা চাঁদ উঠতে দেখে জোছনা। হাতে প্লাস্টিকের সস্তা চুড়ি আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক লাগিয়ে সে অপেক্ষা করে রাস্তায়। এখন নানান পোড় খেয়ে সেও অল্প ক’মাসে দক্ষ হয়ে উঠেছে। পুরুষের ভাওতা আর ভন্ডামী সে ধরতে পারে। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করতে করতে রাত প্রায় এগারোটা বেজে গেল। তার এমন হয় না। দেখতে যে রকম ফুটফুটে তার খদ্দের কিছুক্ষণের মাঝেই জোগাড় হয়ে যাবার কথা। কিন্তু আজ কেন যেন হচ্ছে না। ভদ্রলোকেরা প্রাইভেট গাড়ির ভেতর থেকে এক পলকে তার শরীর দেখে। জোছনা এদের চোখ এক নিমিষেই পড়ে নিতে পারে। সে জানে, সুযোগ পেলে এরাও তাকে ভালো দাম দিয়ে বিছানায় নিয়ে যাবে।

চাঁদটা আলো ছড়াতে পারছে না। আকাশে কোথা থেকে যেন এক চিলতে মেঘ জমে এসেছে। একটা ভ্যাপসা গরমে জোছনার গলার নিচে চিটচিটে ঘাম জমেছে। ওড়নার এক প্রান্ত দিয়ে ঘাম মুছে সে আইল্যান্ড ধরে বসে পড়ে। অদূরে কাছাকাছি এক রিকশাচালক রিকশা থামিয়ে পেশাব করতে বসে। ঘাড় ঘুরিয়ে জোছনাকে দেখে নেয় একবার। হলুদ নিয়ন বাতির আলোয় জোছনাকে আরো অদ্ভুত রকম লাগে। জোছনাও শেষ আশা মনে করে একটা ভান করা হাসি দেয়। জোছনার কাছে সবাই কাস্টমার, তা যে বয়সেরই হোক।

আকাশে তখন আরো মেঘ জমেছে। দূরে শহরের বাইরে কোথাও বিজলি চমকাচ্ছে। ভ্যাপসা গরম আরো বেড়ে যাচ্ছে। কিছু সময় পর বৃষ্টি নামবে হয়তো। বাড়ি ফেরা মানুষেরা প্রায় ফাঁকা হয়ে আসা রাস্তায় সাঁই সাঁই করে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যাচ্ছে। সেসব গাড়ির বাতাসে জোছনার চুল উড়ছে। আর আকাশের ওপারে মেঘের আড়ালে চাঁদ তার সব জোছনা নিয়ে লুকিয়ে মেঘের ভাঁজে আটকে আছে অজানা লজ্জায়।

তিনশ টাকা দরদাম হয়ে যায় জোছনার। রিকশা ড্রাইভার তাকে নিজের রিকশায় চড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দূরের বিজলি চমকাতে থাকে, নিয়ন আলো আর বিজলির চমকে রিকশার চালককে জোছনার কেমন যেন পরিচিত লাগে। সে ভাবতে থাকে, আবার ভাবনায় খেই হারিয়ে ফেলে। রাস্তার ধুলাবালি উড়তে থাকে বাতাসে। কয়েকটা অলিগলি পেরিয়ে সে একটা বস্তির ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। রিকশার ড্রাইভার বিছানার তোষকের নিচে রাখা গাঁজার স্টিক বের করে। জোছনা এবার ভালো করে লোকটাকে দেখতে থাকে। তার কেন যেন খুব চেনা চেনা লাগছে। লোকটা পরপর দুইটা গাঁজার স্টিক ধরিয়ে নেয়। তার চোখগুলো লাল লাল হয়ে যায়।

ঘরের টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টির ফোটা পড়ছে। একটু পরেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে। জোছনা খাটের অন্য কোণে বসে আছে। এখন সে স্তব্ধ। কারণ সে চিনতে পেরেছে কে এই লোক। লোকটা গাঁজার নেশায় বুদ হয়ে লোলুপ চোখে জোছনাকে দেখে। ঘরের কোণে রাখা পানির জগ থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেয়। তারপর বিছানায় সটান শুয়ে পড়ে। শুয়ে জোছনার হাত ধরে টান দেয়। তখনই দূরে কোথাও একটা ভারী বাজ পড়ে। আর সাথে সাথে বিদ্যুৎ চলে যায়। সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টি নামে টিনের চালে। জোছনা ডুকরে কেঁদে ওঠে। বিলাপ করে বলে, ‘আপনে আমার বাপ। আমারে ছাড়েন, আমি যামুগা’। কিন্তু নেশাগ্রস্ত লোকটি উত্তরে বলে- ‘ধুর মাগী! তিনশ টাকা দিছি না? কথা বাড়াইস না। লাগে আর একশ দিমু’।

বাইরে আকাশ আর পৃথিবী এর চেয়ে ভয়ঙ্কর আয়োজনে ব্যস্ত। কিন্তু এসব কিছুতে খোদার আরশ কাঁপে না।