‘হিজড়া বলে কি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবো না?’

সাদা কালো শাড়ি, মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা। গালে ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা’র আল্পনা আঁকা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এরা, তাও মঙ্গলবার সন্ধার পর থেকেই। এরা সদ্য স্বীকৃত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ; সমাজে হিজড়া হিসেবে যারা বেশি পরিচিত।

বুধবার বিশ্বজুড়ে পালন করা হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হবে বাংলাদেশে। দিনের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। এরপর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। দিনভর শ্রদ্ধার অর্ঘে মানুষ স্মরণ করবে বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী বীরদের।

তবে এবার সবকিছুর চেয়ে ব্যতিক্রম হলো হিজড়াদের শ্রদ্ধা জানানোর আগাম প্রস্তুতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির ঠিক বিপরীত অবস্থান নেন হিজড়ারা। কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ হিজড়া ফাউন্ডেশনের ঢাকার ৪৯টি নেতাকর্মীরা এখানে জড়ো হয়েছেন। উদ্দেশ্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই তারা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন।

যখন অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া ভাষা রক্ষায় তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না তখন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের এমন আগাম প্রস্তুতি দৃষ্টি কেড়েছে পথচারীসহ সবার। অমর একুশে গ্রন্থ মেলা শেষে বের হয়ে অনেকে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন অনেকে। সমাজে অবহেলিত থাকা এসব মানুষদের নেওয়া এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

মিরপুর থেকে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন কোয়েল হিজড়া। সমাজের অহেলিত থাকার ক্ষোভ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হিজড়া বলে আমরা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে পারিনা। আজ বীর শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আমরা এখন স্বীকৃত। সবার সঙ্গে মিশতে চাই। হিজড়া বলে কি আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবো না?’

বাংলাদেশ হিজড়া ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক অনু হিজড়া বলেন, ‘আমরা ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ারর পর থেকেই সাধারণ মানুষের মতো সব সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পেরে আমরা গর্বিত।’

জড়ো হওয়া হিজড়াদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন পথচারী আহমদ নূর। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হিজড়াদের প্রস্তুতি দেখে তিনি সেখানে দাঁড়ান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব ভাল লাগছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা এখন জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিচ্ছে। এমন অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে অন্যদের মতো সমানভাবে কাজ করতে পারবে তা বোঝা যাচ্ছে।