আবারো জুতা পায়ে সরকারি কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে

নড়াইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করে জুতা পায়ে দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মাইক থেকে বারবার জুতা পায়ে দিয়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে উঠতে নিষেধ করা হলেও তা কেউ মানেননি। নিয়মনীতি ভেঙে হুড়োহুড়ি করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং সেলফির তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

নড়াইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। এরপর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও জেলা আওয়ামীলীগ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর শুরু হয় আগে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার প্রতিযোগিতা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতে গোনা কয়েকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া শেষ হলেই শুরু হয়ে যায় আগে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার প্রবণতা। এসময় অনেকেই জুতা নিয়েই শহীদ মিনারের বেদিতে উঠে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবদেন করেন। এসময় মাইকের ঘোষক আহবান জানালেও তা কেউ শোনেনি। যার যার ইচ্ছামতো শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক কাজী হাফিজুর রহমান জানান, সরকারী পোষাক পরিহিত কয়েকজনকে দেখা গেছে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে অবস্থান করেছেন এবং সেলফিও তুলেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস নড়াইলের একজন সদস্য জুতা পায়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেছেন এবং আরেকজন দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছেন। এতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও জুতা পায় দিয়ে শহীদ মিনারের পাদদেশে উঠে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকর্মী মধুসূদন অভিযোগ করেন, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে সেলফি তোলার ভীড়ে টেলিভিশনের জন্য ভাল একটু ভিডিও করারও সুযোগ পাওয়া যায়নি। এবছর সেলফি প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় শ্রদ্বাঞ্জলি দিতে অনেকেরই বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নড়াইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদা ভাবগম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে।