‘এই সুমি সেই সুমি’

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল ১১টা। চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম তার অফিসে এসে বসেছেন মাত্র। হটাৎ ‘ভাইয়া’ বলে ডাক দেয় এক মেয়ে। পর্দা সরিয়ে মুখের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে সুমি আক্তারের মুখ। চেয়ার ছেড়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। আবেগে আপ্লুত হয়ে বলে ওঠেন ‘এই সুমি; আর সেই সুমি! আজকের সুমি আর তিন মাস পূর্বের সুমির মধ্যে বিস্তর ফারাক।’

পুরনো দিনের কথা ভুলতে না পেরে ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে (২০ ফেব্রুয়ারি)মঙ্গলবার সকালে মা আঞ্জুয়ারা খাতুনকে সঙ্গে করে চাটমোহর থানায় এসেছিল সুমি আক্তার।

এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চাটমোহর উপজেলা শাখার সভাপতি কেএম বেলাল হোসেন স্বপনকে কৃতজ্ঞতা জানায় সুমি ও তার পরিবার। অথচ আজ থেকে প্রায় তিন মাস পূর্বে চাটমোহর পৌর শহরের কালী নগর মহল্লার আবদুস সোবাহন বিচ্ছু ও ফেরদৌসি বেগম দম্পতির বাড়িতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার ও ৫ বছর গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় শীর্ণকায় অবস্থায় উদ্ধার করে চাটমোহর থানা পুলিশ।

এ সময় উপজেলা প্রশাসন, চিকিৎসক, থানা পুলিশ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সবাই সুমি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থানা থেকে বেড়িয়ে সুমি একে একে ডাক্তার, নার্স, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ সকলের সাথে দেখা করে। প্রথম দর্শনে কেউ সুমিকে চিনতেই পারেননি! এ যেন রূপকথার মত ঘটনা।

পরিচয় পাওয়ার পর সকলেই ওকে আদর করার পাশাপাশি সাধ্যানুযায়ী খাদ্য ও উপহার সামগ্রী কিনে দেন। এছাড়া প্রত্যেকেই সুমির দ্রুত শারীরিক উন্নতিতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেন। সুমি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার মসিন্দা ইউনিয়নের বিলব্যাসপুর গ্রামের দিনমজুর শফিকুল ইসলাম ও গৃহিণী আঞ্জুয়ারা খাতুনের মেয়ে।

উল্লেখ্য, অভাবে তাড়নায় চাটমোহর পৌর শহরের কালী নগর মহল্লার আবদুস সোবাহন বিচ্ছু ও ফেরদৌসি বেগম দম্পতির বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে রেখে যান সুমির পরিবার। দীর্ঘ ৫ বছর গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় গত ৩রা ডিসেম্বর রাতে সুমিকে শীর্ণকায় অবস্থায় উদ্ধার করে চাটমোহর থানা পুলিশ। ১৪ দিন চাটমোহর হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর বাবা-মা’র সাথে বাড়ি ফিরে যায় সে।

পরে সুমির মা আঞ্জুয়ারা খাতুন বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এক মাস জেল হাজতে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন আবদুস সোবাহন বিচ্ছু ও ফেরদৌসি বেগম।