বিএনপি এত ভোট পায় কি করে? প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময়

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোট প্রাপ্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুলনায় ভোট শেষে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিজয়ের সংবাদ পৌঁছুতে গত মঙ্গলবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা গণভবনে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এসময় তিনি কেন্দ্রীয় অন্য নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘বিএনপি এত ভোট পায় কি করে? তোমরা কি বিএনপির অপকর্মের তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছো?’ সেখানে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কাছে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তুষ্টির এ তথ্য জানান।













সূত্র জানায়,‘‘দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন,বিএনপি দুঃশাসন-দুর্নীতি করেছে,ক্ষমতায় থাকতে অব্যাহত লুটপাটের ফলে রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্ব হারিয়েছে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে, তাদের দুর্নীতি-লুটপাট আজ সর্বজন স্বীকৃত। আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে তারা মানুষ হত্যা করেছে। তোমরা কী এসব তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছো?’’

দলীয় নেতাদের শেখ হাসিনা আরও বলেন, গত ৫ বছর বিএনপির মেয়র ছিল খুলনায়। খুলনাবাসীকে কী দিতে পেরেছে গত মেয়র? তিনি বলেন, খুলনার মানুষের জন্যে এমন একটি ভালো কাজ কি বিএনপি থেকে নির্বাচিত গত মেয়র করতে পেরেছে? তারা তো সারাদেশে অগ্নিসংযোগ করেছে। জনগণের সেবার মানসিকতা এই দলটির মধ্যে নেই। এগুলো নিশ্চয়ই জনগণের সামনে তোমরা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছো।গত মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট আর বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। সংবাদ উৎস- আমাদের সময়

মুক্ত খালেদাকে নিয়ে ঈদ করার আশায় বিএনপি













আপাতত মুক্তি না পেলেও রোজার ঈদের আগেই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে ছাড়া পাবেন বলে আশা করছে বিএনপি।জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত তার জামিন বহাল রেখে রায় দেওয়ার পর বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আশাবাদ প্রকাশ করেন। এই মামলাটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন হলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় আপাতত তার মুক্তি যে মিলছে না, তা আইনজীবীরা সকালেই জানিয়েছিলেন।

সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় চেয়াপারসনের কার্যালয়ে ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “ঈদ পর্যন্ত ম্যাডাম কারাগারে থাকবেন- এটা আমরা মনে করি না। ঈদের আগে অবশ্যই তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন- এটা আমাদের বিশ্বাস।

“আমাদের দেশের মধ্যে আইনের যে সিস্টেম আছে, তাতে মনে করি যে এটাই হওয়াটা উচিৎ।”জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা। আপিল করে হাই কোর্ট থেকে তিনি জামিন নিলেও পরে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ আসে। বুধবার আপিল বিভাগও জামিনের আদেশ বহাল রেখে রায় দেয়।বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ম্যাডামকে এখন ৬টা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো আছে। সেই মামলাগুলো নিয়ে আমরা হাই কোর্টে মুভ করব। আইনজীবীদের সাথে আমি আলাপ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামী ৭/১০ কর্ম দিবসের মধ্যেই ওইসব মামলায় জামিন পাওয়া যাবে।”







খালেদা জিয়ার দণ্ড এবং তার কারাবাস দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য বিএনপি সরকারকেই দায়ী করে আসছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, এটা পুরোপুরিই আদালতের বিষয়।জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে জড়ানোর কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই মামলার সাথে বেগম জিয়ার কোনো সম্পর্কই নাই, উনি জানতেনও না এই ফান্ড আসছে, এই ফান্ড যাচ্ছে। উনার কোনো সই নাই। ট্রাস্টি বোর্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তাকে কি করে আসামি করা যায়?“নিম্ন আদালতে যে বিশ্বাস ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তা কিন্তু প্রমাণ করতে পারেনি। নিম্ন আদালতে রায় দিয়ে দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী যে, উচ্চ আদালতে উনি গেট দ্য রিলিজ।” গুলশানের কার্যালয়ে যাওয়ার আগে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দেখে আসেন ফখরুল।সূত্র : বিডি নিউজ