অবশেষে টি-টোয়েন্টিতে ফিরছেন মাশরাফি!

এক বছর আগে শ্রীলঙ্কার মাটিতেই তাঁর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ‘কফিনে’ ঢুকিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। অথচ কি আশ্চর্য সেই কলম্বোর মাঠেই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে হয়তো আবার বল হাতে ছুটতে দেখা যাবে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। সেদিন নড়াইল এক্সপ্রেসের স্বেচ্ছা অবসরের ঘটনায় যাঁরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন, সেই তাঁরাই মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় নিদহাস ট্রফি দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ফেরার অনুরোধ করেছেন!

সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর মিডিয়ার সামনে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের ‘মন খুলে কথা বলা’ একরকম অনুমিতই ছিল। বিদেশ থেকে ফিরে এক দিনের বিরতির পর গতকাল তিনি মুখোমুখি দেশীয় সংবাদমাধ্যমের। সেখানে সব শেষ সিরিজের ময়নাতদন্তের সময় জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার কথাও, ‘এটা (মাশরাফির প্রত্যাবর্তন) নিয়ে আলাপ হয়েছে। এটা তো মাশরাফির ওপর নির্ভর করে। আমাকে সবাই বলেছে আপনি বললে মাশরাফি খেলবে। কিন্তু আমি তো চাপ দিতে পারি না। আমি বলতে পারি, যদি সে রাজি হয়। আমি ওকে এ সিরিজেও (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) খেলতে বলেছিলাম; কিন্তু জোর করিনি।’

গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর নাকি মাশরাফিকে ফোনও করেছেন নাজমুল হাসান। তবে টি-টোয়েন্টিতে ফেরা প্রসঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত মাশরাফি তাত্ক্ষণিক নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে জানতে চাওয়া হলে মাশরাফি জানিয়েছেন, ‘আমিও শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে এখনই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।’

এদিকে বোর্ড সভাপতির অভিপ্রায় জানার পর বোর্ডের একাধিক মাধ্যমও যোগাযোগ করেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে। তাঁদেরই একজন নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, ‘এখনো বাংলাদেশের সেরা পেসার মাশরাফি। খুব ভালো হয় ও যদি প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়। আমার বিশ্বাস, মাশরাফি ফিরবে।’

কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর টি-টোয়েন্টিতে ফেরার পক্ষে জোরালো মনোভাব নেই। তাদের আশঙ্কা, তিলে তিলে গড়ে তোলা ভাবমূর্তি না এক লহমাতেই গুঁড়িয়ে যায়। আজ যাঁরা সমর্থনের কাঁধ বাড়িয়ে দিচ্ছেন, নিদহাস কাপে চুন থেকে পান খসলে সেই তাঁরাই প্রশ্ন তুলবেন মাশরাফির সামর্থ্য নিয়ে। মাশরাফির দীর্ঘদিনের এক বন্ধু বলছিলেন, ‘ফর্মে থাকার পরও তো ওর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন উনারা (টিম ম্যানেজমেন্ট)। মাশরাফি অবসরের ঘোষণা না দিলে হয়তো উনারা বাদই দিয়ে দিতেন। এখন আবার ডাকছেন। কোনো গ্যারান্টি আছে, এবার সেই রকম কিছু হবে না!’

তবে বোর্ডের এক পরিচালক অবশ্য এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘একটা ম্যাচে যে কেউই খারাপ বোলিং করতে পারে। তবে মাশরাফি অবিশ্বাস্য রকমের ধারাবাহিক। অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। এমন একজনকে দলের খুব দরকার। আশা করি দলের প্রয়োজনে অবসর থেকে ফিরবে মাশরাফি।’ সে জন্য নাকি দু-একদিন সময় চেয়ে পেয়েছেনও মাশরাফি।