‘শুনছি রাস্তায় গেলে নাকি মার খেতে হবে’

গণমাধ্যমের উপর ক্ষেপেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। মিরপুর টেস্টের ব্যর্থতার পর তাকে নিয়ে যখন সমালোচনা তুঙ্গে, তখন সুজন দায় দিলেন মিডিয়াকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দাবি, গণমাধ্যমের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি রাস্তায় বের হলে মার খেতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে!

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুজন বলেন, ‘আমরা তো বাচ্চা খোকা না এখন। সবাই বড় হয়েছি। অনেক কিছু স্টাবলিশ করা হয়। আমার পিছে যদি লেগে থাকা হয়, আমি কোনোদিন ভালো করলেও ভালো হব না। এত বছর খালি ভালো করতে তো শুনি নাই। সোশ্যাল মিডিয়া বলেন, মিডিয়া বলেন। আজকে এমনও শুনছি যে রাস্তায় গেলে আমাকে মার খেতে হতে পারে। তো ক্রিকেট খেলার জন্য মাইর খেতে হলে এটা তো অকওয়ার্ড আসলে।’

গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করে করে সুজন জানান, সবকিছু কতটা কঠিন সেটা ড্রেসিংরুমের কাচের ভেতরে যারা থাকে তারা জানে আর যারা ২২ গজে খেলছে তারা জানে। তার ভাষায়, ‘দেখেন, মানুষের আন্ডারস্ট্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেসিং রুমের কাচের ভেতর কী হয়? কাচের ভিতরে বসে খেলা দেখা, আর মাঠে এসে খেলা। আমরা যারা খেলছি। যতই আমরা প্ল্যানিং দেই। প্রেসার সিচুয়েশন আসে যখন বড় ব্যাটসম্যানও ভুল করে। এটা কেউ মানতে পারে না।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে চেয়েছিলেন সুজন। কিন্তু সেটা হয়নি। তাই সে হার এবং উইকেট নিয়েও তার সমালোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার সিদ্ধান্ত নিয়েও চলছে বিতর্ক। তবে সাবেক এই অধিনায়কের দাবি, সবার মানসিকতা এত উপরে উঠেছে বলেই এই অবস্থা। প্রত্যাশার চাপই সবকিছু গুবলেট করে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। আমরা সবকিছুই জিতব। এই কাচের ভিতর থেকে যারা কাজ করি তাদের জন্য এতটা সহজ না আসলে। আমি ইমোশনাল হয়ে গেছি হয়তোবা। আশা ছিল এই সিরিজটা (টি-টোয়েন্টি) জিতব। ওয়ানডেতে যেভাবে শুরু করেছিলাম, জেতা উচিত ছিল।’

অনেক আশা করে স্পিন-সহায়ক উইকেট চেয়েছিলেন সুজনরা। সেভাবেই পেয়েছিলেন। কিন্তু বিপাকে ফেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এককথায় রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা আর আকিলা ধনঞ্জয়াদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমরা। সঙ্গে এই টেস্টে হুট করে মোসাদ্দেক হোসেনকে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে পাঠিয়ে দেওয়াও চোখে লেগেছে সবার। তার বদলি হিসেবে যে সাব্বির রহমানকে দলে ভেড়ানো হলো, তিনি দুই ইনিংসে একটি মাত্র রান করতে পেরেছেন ব্যাট থেকে।