Thursday , September 19 2019

‘বাবা এতো টাকা খরচ করে ভর্তি করালো, ফেরারও পথ নেই,’ সুইসাইড নোটে ঋষিক

সম্প্রতি আত্মহ’ত্যা করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্র ঋষিক কোলে। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ঋষিকের লিখে যাওয়া সুই’সাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, সমস্ত ক্লাস ইংরেজিতে পড়ানো হয়। শিক্ষকদের ইংরেজিতে পড়ানোটা মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। কম্পিউটার ক্লাসও একদম বুঝতে পারছি না। কলেজে পড়াশোনার লেভেল খুব হাই।’ বাংলা মাধ্যমে পড়ে ইংরেজি মিডিয়ামের সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার অনেক অ’সুবিধা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ঋষিক। সুই’সাইড নোটে তার আক্ষেপ, ‘বাবা এতো টাকা খরচ করে ভর্তি করালো। কিন্তু আমি তো চাপ নিতে পারছি না! বাবা বকবে। আমা’র এখানে ভর্তি হওয়াটাই ভুল হয়েছে। ফেরারও পথ নেই। তাই আমি আত্মহ’ত্যা করছি।’

স্বপ্ন ছিল সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়ার। উচ্চ মাধ্যমিকে দারুণ কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে সেই স্বপ্ন সফলও হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এসে স্বপ্নভঙ্গ। বাংলা মিডিয়ামে পড়া, আবাল্য গ্রামের পরিবেশে বেড়ে ওঠা সদ্য তরুণ মানিয়ে নিতে পারেননি কলকাতার কেতাদুরস্ত সাহেবি কলেজের আদব-কায়দার সঙ্গে। অথচ ছেড়ে যাওয়ারও পথ খুঁজে পায়নি। এই মানসিক টানাপোড়েনের চাপ সহ্য করতে না পেরেই সিঙ্গুরের মেধাবী ছাত্র ঋষিক কোলে নিজের জীবনে দাঁড়ি টেনে দিয়েছেন বলে ত’দন্তকারীদের অ’ভিমত।

বৃহস্পতিবার সকালে এজেসি বোস রোডের কলেজ হোস্টেল থেকে নি’খোঁজ হয়েছিলেন ঋষিক। সেদিনই দুপুরে উত্তরপাড়া-হিন্দমোটর স্টেশনের মাঝে রেললাইনে এক তরুণের দেহ উ’দ্ধার হয়। শুক্রবার রাতে জানা যায়, সেটি ঋষিকের। ঘটনাস্থলে সুই’সাইড নোটটি পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, কলেজে ভর্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন ঋষিকের বাবা। আর সে কারণেই তার মনে হয়েছিল, ফিরে আসার পথ নেই। ছেলের এমনটা কেন মনে হলো, ঋষিকের বাবা-মা কিন্তু ভেবে পাচ্ছেন না। শনিবার সকালেই তার বাবা রতিকান্ত কোলে ছেলের ম’রদেহ আনতে যান বেলুড় জিআরপিতে। ময়নাত’দন্তের পর ম’রদেহ বিকেলে নিয়ে আসা হয় সিঙ্গুরের বেলতলা লেনের বাড়িতে। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ঋষিকের বাড়ি হুগলির সিঙ্গুরে অ’পূর্বপুরের বেলতলা লেনে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আর মা স্কুলে পড়ান। বড়বোন ধানবাদে আইআইটিতে গবেষণা করেন। বাড়িতে আগাগোড়াই পড়াশোনার পরিবেশ। সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়তে চেয়েছিলেন ঋষিক। লক্ষ্য ছিল অধ্যাপক হওয়ার। উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০-র মধ্যে ৪৭০ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ৮৩। প্রথমে শ্রীরামপুর কলেজে ভর্তি হয়েও পরে সেন্ট জেভিয়ার্সে চলে যান তিনি। কিন্তু কলেজে ভতির্র লক্ষ্য পূরণ হলেও অধ্যাপক হওয়ার আর হলো না ঋষিকের। স্কুলের শিক্ষক থেকে প্রতিবেশী প্রত্যেকের মুখেই একই প্রশ্ন, শুধু মানসিক চাপেই কি এভাবে আত্মহ’ত্যার পথ বেছে নিলেন ঋষিক?